ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিল বিষাদে। ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলের রুশ-নিয়ন্ত্রিত অংশে নববর্ষ উদযাপনের সময় ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনীয় বাহিনীর চালানো এই হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৫০ জন। মস্কো এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ ও ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
বহস্পতিবার (১লা জানুয়ারি) রাশিয়ার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, নববর্ষ উদযাপনের সময় উপকূলীয় গ্রাম খোরলির একটি হোটেল এবং ক্যাফে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। খেরসন অঞ্চলের রাশিয়া-নিযুক্ত গভর্নর ভ্লাদিমির সালদো জানান, উৎসবের স্থানে তিনটি ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানে। তিনি অভিযোগ করেন, বেসামরিক মানুষদের লক্ষ্য করে এই ‘ইচ্ছাকৃত হামলা’ চালানো হয়েছে, যার ফলে আগুনে পুড়ে এবং বিস্ফোরণে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ২৪, যার মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। এছাড়া আহত ৫০ জনের মধ্যে ছয়জন নাবালক। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং শীর্ষ রাজনীতিবিদরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং ড্রোনগুলো জেনেশুনে এমন স্থানে আঘাত হেনেছে যেখানে বেসামরিক মানুষ উৎসবের জন্য জড়ো হয়েছিল। একে সুস্পষ্ট ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে রাশিয়া।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে দাবি করেন, এই ঘটনার জন্য শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররাই দায়ী। অন্যদিকে, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "মস্কো এই হামলার প্রতিশোধ যুদ্ধক্ষেত্রেই নেবে। হামলাকারী ও তাদের কমান্ডারদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু করা হবে।"
এ বিষয়ে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে কিয়েভ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। খেরসনের এই ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ যুদ্ধের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য মস্কো টাইমস।
ডিবিসি/এএমটি