ফরিদপুরে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে স্বামী নাছের ঠাকুরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। আজ (৯ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত নাছের ঠাকুর জেলার মধুখালী উপজেলার গদাধরদী এলাকার মৃত মকবুল ঠাকুরের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
২০১২ সালে মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের বাবন শেখের মেয়ে স্বপ্না বেগমের সঙ্গে নাছের ঠাকুরের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নাছের স্বপ্নার কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন এবং টাকা না পেয়ে তাকে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের ২১ মার্চ পুনরায় যৌতুক দাবি করে ব্যর্থ হয়ে বসতঘরের মধ্যে স্বপ্নার শাড়ির আঁচল গলায় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন নাছের। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ওই দিনই পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং স্বপ্নার ভাই আলী শেখ বাদী হয়ে মধুখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।
রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন। তিনি এই রায়কে সন্তোষজনক উল্লেখ করে বলেন, এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা সুস্থ সমাজে কাম্য নয়। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ডিবিসি/টিবিএ