রাশিয়ার দেওয়া প্রায় সাড়ে এগারো বিলিয়ন ডলার ঋণের বিপরীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি টাকা সুদ গুণতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ার সাথে সাথে এই সুদের পরিমাণও বাড়ছে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সাল থেকে ঋণের আসল টাকা পরিশোধ শুরু হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে দিয়েছে রাশিয়া। এই ঋণের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ হারে সুদ দিতে হচ্ছে নির্মাণকাজ শুরুর দিন থেকেই। চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রকল্পে ৭.৭০ বিলিয়ন ডলার অর্থ ছাড় হয়েছে, যার ফলে দৈনিক সুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়ার দেওয়া ঋণের সম্পূর্ণ ১১.৩৮ বিলিয়ন ডলার অর্থ ছাড় হলে দৈনিক সুদের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৫ কোটি টাকারও বেশি। গত মার্চ মাসে রাশিয়াকে সুদ বাবদ ১৫৫.৫ মিলিয়ন ডলার বা ১৮৬০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৩২ মাস পিছিয়েছে, যা ২০২২ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়ার কথা ছিল। সময় যত বাড়ছে, সুদের বোঝাও তত ভারী হচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ড. শওকত আকবর এ বিষয়ে তথ্য দেন।
জেসিসি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের নির্মাণকাজ ও আনুসঙ্গিক ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই এবং কম দামের পণ্য কিনে বেশি অর্থ নেওয়ার মতো অভিযোগও উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েকজন কর্মকর্তার অবহেলার কারণে প্রকল্পটি ঋণের জালে আটকে যাচ্ছে এবং একটি লোকসানি প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। ক্যাব-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সরকারি নিরীক্ষায় কর্মকর্তাদের দুর্নীতির প্রমাণ মিললেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।
ডিবিসি/পিআরএএন