পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং তার সঙ্গিনী জর্জিনা রদ্রিগেজের বিয়ে হচ্ছে- এমন গুজবে স্থানীয় একটি গির্জায় ভিড় জমান প্রায় দুই হাজার ভক্ত। তবে সেখানে গিয়ে তারা আবিষ্কার করেন, বিয়েটি এই বিশ্বখ্যাত ফুটবল তারকার নয়, বরং সাধারণ এক জুটির। এই আকস্মিক ভিড়ে রীতিমতো বিভ্রান্ত ও হতবাক হয়ে পড়েন নবদম্পতি।
ফুনচাল ক্যাথেড্রালের বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিল এই ভেবে যে, ৪১ বছর বয়সী বিলিয়নিয়ার ফুটবল তারকা হয়তো ছদ্মনামে ১৫ শতকের এই গির্জাটি বুক করেছেন। কিন্তু বাস্তবে ওই দিন বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছিলেন ফাবিও রামোস এবং ফাতিমা নিকোল কুনহা তেইক্সেইরা নামের এক যুগল।
মাদেইরার আদি বাসিন্দা এই দম্পতি বর্তমানে ফ্রান্সে বসবাস করেন। বিয়ের দিন কনে ফাতিমাকে গির্জায় প্রবেশের সময় রোনালদোর সাত নম্বর জার্সি পরা অসংখ্য কৌতূহলী জনতার ভিড় রীতিমতো যুদ্ধ করে ঠেলে ভেতরে যেতে হয়। এ সময় অতিথিদের চিৎকার করে বলতে শোনা যায় যে, ‘ইনি জর্জিনা নন।’
এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। খোদ রোনালদোর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকেও এই ভিডিওর প্রতিক্রিয়ায় হাসির ইমোজি দেওয়া হয়। তবে বিয়েতে আসা এক অতিথি জানান, এমন কাণ্ডে কনে বেশ বিরক্ত হয়েছিলেন এবং তিনি ভয় পাচ্ছিলেন যে এই অপ্রত্যাশিত ভিড় তার বিয়ের বিশেষ দিনটি নষ্ট করে দেবে।
এদিকে রোনালদোর বোন কাতিয়া আভেইরো মাদেইরাতে একটি 'পার্টি'-তে যোগ দিতে আসার ভিডিও পোস্ট করলে ফুটবল তারকার বিয়ের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। এছাড়া স্যাভয় প্যালেস নামের একটি পাঁচতারা হোটেলের কর্মীরা জানিয়েছিলেন যে, আল-নাসর তারকা তাদের 'দ্য রিজার্ভ' নামের এক্সক্লুসিভ সেকশনের ওপরের দুটি তলা বুক করেছেন।
গুচি স্টোরের সাবেক সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং বর্তমানে ৩২ বছর বয়সী মডেল জর্জিনার সাথে গত বছরের আগস্টে রোনালদোর বাগদান সম্পন্ন হয়। সে সময় তিনি বিশ্বকাপ শেষে বিয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আগামী সপ্তাহে নতুন মৌসুম শুরুর আগে তার সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
তবে ফুনচাল ক্যাথেড্রালের ফাদার মার্কোস গনকালভেস পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, ওই দিন গির্জায় কেবল একটি বিয়েরই বুকিং ছিল এবং রোনালদোর নামে কোনো বুকিং তাদের কাছে নেই।
এর আগে গত ১ আগস্ট পর্তুগালের সিন্ত্রায় রোনালদো-জর্জিনার বিয়ের একটি ভুয়া খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, যা পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। টেলিভিশন চ্যানেলে একটি ভুয়া বিয়ের কার্ড ছড়িয়ে পড়ার পর এই গুঞ্জনের সূত্রপাত হয়েছিল।
সূত্র: দ্য সান
ডিবিসি/এসভিএন