নিজের ষষ্ঠ ও শেষ বিশ্বকাপ শেষ করেছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও দুই দশকের বেশি সময় ধরে পর্তুগালকে নেতৃত্ব দেওয়া এই কিংবদন্তি বিদায়বেলায় রেখে গেলেন বড় এক প্রশ্ন, তাকে ছাড়া কীভাবে এগোবে পর্তুগাল?
২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর রোনালদো নিশ্চিত করেন, তিনি আর কোনো বিশ্বকাপে খেলবেন না। যদিও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে এখনই অবসরের ঘোষণা দেননি। ফলে নতুন কোচ জর্জ জেসুসের অধীনে আরও কিছু ম্যাচে তাকে দেখা যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদোই প্রথম ফুটবলার, যিনি ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েছেন। তবে তার সম্ভাব্য বিদায় শুধু মাঠের পারফরম্যান্সেই প্রভাব ফেলবে না, বরং পর্তুগাল ফুটবলের বাণিজ্যিক মূল্য, স্পন্সরশিপ, বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা ও গণমাধ্যমের আগ্রহেও বড় ধাক্কা দিতে পারে।
পর্তুগিজ সংবাদ সংস্থা লুসাকে মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ দানিয়েল সা বলেন, ‘ব্র্যান্ডের দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো একাই পর্তুগাল জাতীয় দলসহ আরও অনেক বড় ফুটবল ব্র্যান্ডের চেয়েও শক্তিশালী। তিনি চলে গেলে সেটি হবে বিশাল ক্ষতি।’
তার মতে, রোনালদোর বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তাই পর্তুগালকে বড় বড় স্পন্সর আকর্ষণ, বাণিজ্যিক চুক্তি এবং ইউরোপের বাইরের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সহায়তা করেছে। কোটি কোটি রোনালদো ভক্তও তার কারণেই পর্তুগাল জাতীয় দলের সমর্থকে পরিণত হয়েছেন।
দানিয়েল সা বলেন, ‘আমি ফুটবল নয়, একটি ব্র্যান্ডের বিশ্লেষণ করছি। রোনালদো চলে গেলে আমরা কতটা প্রচার, গণমাধ্যমের মনোযোগ ও বাণিজ্যিক মূল্য হারাব, তা এখনো অনেকে উপলব্ধি করতে পারছেন না। গত ২০ বছরে তিনি একাই পর্তুগালকে অসংখ্য চুক্তি এনে দিয়েছেন এবং বিপুল অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করেছেন।’
বর্তমান পর্তুগাল দলে জোয়াও ফেলিক্স, ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস ও রাফায়েল লিওর মতো প্রতিভাবান ফুটবলার থাকলেও, বাণিজ্যিক প্রভাবের দিক থেকে কেউই রোনালদোর ধারেকাছেও নন।
তাই পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন নতুন কোনো ‘রোনালদো’ খুঁজে বের করা নয়, বরং রোনালদো পরবর্তী সময়ে একটি শক্তিশালী দলগত পরিচয় গড়ে তুলে সেটিকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করা।
ডিবিসি/এমআরএফ