বাংলাদেশ, জাতীয়

পাসপোর্ট দেয়া মানেই কিন্তু রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সৌদি আরবে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রিয়াদের চাপে এবং দেশের অন্যান্য কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনে এই পাসপোর্ট নবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাসপোর্ট দেওয়া মানেই এই নয় যে তারা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, অতীতে হাতে লেখা পাসপোর্টের যুগে প্রশাসনিক ত্রুটি ও দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে বহু বছর আগে প্রচুর রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পরিচয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। বর্তমানে সৌদি কর্তৃপক্ষ সেই পাসপোর্টগুলো নবায়নের জন্য বাংলাদেশকে চাপ দিচ্ছে। বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেছে।

 

নাগরিকত্ব ইস্যুতে বিভ্রান্তি দূর করতে তৌহিদ হোসেন বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই বিশেষ প্রয়োজনে অন্য দেশের নাগরিকদের ট্রাভেল ডকুমেন্ট বা পাসপোর্ট দেওয়ার নজির রয়েছে। তাই পাসপোর্ট বহন করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিক হয়ে যান না। তিনি বলেন, এই জনগোষ্ঠীর মূল নিবাস মিয়ানমারের আরাকানে। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত ১৩ লাখ রোহিঙ্গার পূর্বপুরুষরা শত শত বছর ধরে সেখানেই বসবাস করে আসছেন।

 

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা আরও বলেন, মিয়ানমার জান্তা বা অন্যরা তাদের নৃতাত্ত্বিক পরিচয় নিয়ে যা-ই গবেষণা করুক না কেন, বিশ্ববাসী জানে তারা আরাকানের অধিবাসী। ছোটখাটো কারিগরি অজুহাত দেখিয়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসন আটকানো যাবে না। তিনি জানান, মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর মতো পরিবেশ সৃষ্টি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য এবং এ লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন