রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজতে কক্সবাজারে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে।
আজ রবিবার (২৪শে আগস্ট, ২০২৫) বিকেল ৪টা থেকে উখিয়ার ইনানী সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন সেনাবাহিনীর হোটেল বে-ওয়াচ মিলনায়তনে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন আরম্ভ হয়।
সম্মেলনের প্রথম দিনেই রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে নির্বাচিত প্রায় ১০০ জন নারী-পুরুষকে আলোচনায় অংশ নিতে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত দেশি-বিদেশি প্রতিনিধি ও নীতি নির্ধারকরা সরাসরি রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে তাদের মতামত, বিশেষ করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে তাদের ভাবনা ও শর্তগুলো শুনছেন। সম্মেলনের প্রথম দিনের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং তাদের মনোবল বৃদ্ধি করা।
নিরাপত্তার কারণে সম্মেলনের অভ্যন্তরে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকলেও, একটি দায়িত্বশীল সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে সম্মেলনের কার্যক্রম নিশ্চিত হওয়া গেছে। আলোচনায় পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যাবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি খলিলুর রহমানসহ দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ অতিথিরা উপস্থিত রয়েছেন।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘আজ রবিবার বিকেলে বাংলাদেশ ও বিদেশি উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে ক্যাম্পে প্রতিনিধিত্বকারী ১০০ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে নিয়ে সম্মেলন শুরু হয়েছে। আমরা সরাসরি তাদের কাছ থেকে শুনছি তারা আসলে কী চায় এবং কীভাবে নিরাপদে নিজ দেশে ফেরত যেতে চায়। অংশীজনরা কীভাবে তাদের সহযোগিতা করতে পারে, সেটিই প্রথম দিনের আলোচনার বিষয়।’ তিনি আরও জানান, সন্ধ্যায় বিদেশি অতিথিদের সম্মানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্যে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে রোহিঙ্গারা তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরবেন।
কর্মসূচি অনুযায়ী, সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন সোমবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে তিন দিনের এই আয়োজনের উদ্বোধন করবেন। বিকেলে চারটি পৃথক বিষয়ভিত্তিক সেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধান উপদেষ্টাসহ বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি মিশনের কর্মকর্তা এবং বিদেশ থেকে আগত প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সম্মেলনের শেষ দিন মঙ্গলবারে অংশগ্রহণকারী বিদেশি অতিথিদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তারা রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা, বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া বিভিন্ন পরিষেবা পর্যবেক্ষণ এবং তাদের সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাবেন।
শরণার্থী ত্রাণ ও নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ১০৭ দেশের সমন্বয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবেই কক্সবাজারের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ৪০টি দেশের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতিসংঘের সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন, যার মূল লক্ষ্য কোনো ধরনের সংঘাত বা বিপত্তি ছাড়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।
ডিবিসি/পিআরএএন