দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা র্যাপার বালেন্দ্র শাহ এখন নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি র্যাপ গানের মাধ্যমে দুর্নীতির প্রতিবাদ করে আসছেন। তার গানে উঠে আসত কাঠমান্ডুর ভাঙা রাস্তা ও সামাজিক বৈষম্যের কথা।
তৎকালীন ক্ষমতাবানরা তার গানকে নিছক গোলমাল বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে দেশের তরুণ সমাজ তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছিল। আজ সেই তরুণরাই তাকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন। গত সপ্তাহে নেপালে দেশব্যাপী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে তরুণরা ৩৫ বছর বয়সী এ নেতার হাতেই দেশের চাবি তুলে দিয়েছেন।
নেপালের রাজনীতিতে সম্প্রতি বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। যুবসমাজের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভের পর আগের সরকারের পতন ঘটে। এরপরই বালেন শাহ নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে যান। নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ম্যান্ডেট অর্জন করে তার দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (আরএসপি) ইতিহাস গড়েছে।
আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বালেন্দ্রর এ জয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক উৎসব চলছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকচিয়াম সাংরাউলা নামের এক নাগরিক আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, বালেন্দ্রর কারণে আজ পুরো জাতি খুশি এবং মানুষের চোখে আনন্দের অশ্রু। বালেন্দ্র এ জাতিকে নতুন করে গড়বেন বলে তাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত অস্থিতিশীল। ৩ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশে ২০০৮ সাল থেকে এক ডজনেরও বেশি সরকার গঠিত হয়েছে। ২৩৯ বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে দেশটি ২০০৮ সাল প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়েছিল।
দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক অভিজাতদের জন্য বালেন্দ্রর এ জয় একটি কঠোর বার্তা। গত বছর সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর নিয়ন্ত্রণ কমতে থাকে। সেই বিক্ষোভে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। এর ফলেই দীর্ঘদিনের নেতা কেপি শর্মা অলির কমিউনিস্ট সরকারের চূড়ান্ত পতন ঘটে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
ডিবিসি/এএমটি