জেলার সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে ৮শ’ টাকা চুরির অপবাদে ২ শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

লক্ষ্মীপুরে ৮শ’ টাকা চুরির অপবাদে দুই শিশুকে হাত বেঁধে নির্যাতন ও সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মুদি দোকানির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত ১১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই দুই শিশুকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শহরের দক্ষিণ মার্কাস মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতিত শিশুরা হলো, সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী এলাকার আবদুস সহিদের ছেলে ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মুজাহিদ হোসেন (৯) এবং ভবানীগঞ্জ চরউভূতি এলাকার জিয়াউল হকের ছেলে হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী জিহান হোসেন (১২)।


পুলিশ, ভুক্তভোগী ও স্বজনরা জানান, শহরের মার্কাস মসজিদ এলাকায় মুদি ব্যবসা করেন মনির হোসেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার দোকান থেকে ৮শ টাকা চুরি হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মুজাহিদ ও জিহানকে আটক করে মারধর করা হয়। পরে ‘চোর ধরা হয়েছে’ বলে এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে তাদের হাত বেঁধে আরও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে জিহানের মুখে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।


পরবর্তীতে দুই শিশুর পরিবারের সদস্যদের ডেকে এনে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার পর শিশুদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেন।


নির্যাতিতদের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, শিশু দুজন চুরির সঙ্গে জড়িত নয়। তাদের ওপর অন্যায়ভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।


অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মনির হোসেন দাবি করেন, তার দোকানের ক্যাশ থেকে ৮শ টাকা চুরি হয়েছে এবং শিশুরা বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে হাত বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আমি শুধু একটি থাপ্পড় দিয়েছি, বাকি বিষয় সম্পর্কে কিছু জানি না।”


লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. জহিরুল ইসলাম জানান, দুই শিশুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া একজনের মুখে সিগারেটের ছ্যাঁকার চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন