চাহিদা থাকায় এবং লাভজনক হওয়ায় পিরোজপুরে প্রতিবছরই সম্প্রসারিত হচ্ছে শুটকি তৈরির ব্যবসা। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে শতাধিক মানুষের। আর, দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে শুটকি তৈরির এই বাণিজ্য।
নদীবেষ্টিত জেলা পিরোজপুর বঙ্গোপসাগরের খুবই সন্নিকটে হওয়ায়, এ জেলার শ্রমজীবী মানুষের একটি বড় অংশ সাগরে মাছ ধরার উপর নির্ভরশীল। সাগর থেকে আহরিত মাছগুলোই আবার বিক্রি করা হয় কঁচা নদীর তীরে অবস্থিত পিরোজপুর সদর উপজেলার বাদুরা মৎস্য অবতারণ কেন্দ্রে যা পাড়েরহাট নামে সুপরিচিত। উচ্চমূল্যের মাছগুলো এখান থেকে পাইকারি ক্রেতারা কিনে সেগুলো বিক্রি করেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। আর, কম দামি এবং বিক্রি না হওয়া বিভিন্ন প্রজাতির মাছগুলো স্থানীয়রা ক্রয় করে সেগুলো দিয়ে তৈরি করেন শুটকি।
এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মৎস অবতারণ কেন্দ্রের কাছেই বাদুরা গ্রামে কঁচা নদীর তীরে গড়ে উঠেছে একটি শুটকি পল্লী। সেখানে লইট্যা, ইলিশ, ঢেলা, ছুড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শুকানো হয়। মাছগুলো চিড়ে ফেলার পর সেগুলো লবণ পানিতে ধুয়ে রোদে শুকানো হয়। পরবর্তীতে সেগুলো ট্রাকযোগে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। সকল খরচ মিটিয়ে এক মণ শুটকি বিক্রি করে ১০০০-১২০০ টাকা লাভ করতে পারেন উৎপাদনকারীরা।
প্রায় দেড় যুগ পূর্বে স্থানীয় এক ব্যক্তির হাত ধরে এ ব্যবসা শুরু হলেও, লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই তা সম্প্রসারিত হচ্ছে। আর, এ ব্যবসার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে শতাধিক স্থানীয় ব্যক্তিদের। শুটকি পল্লীতে মাস এবং দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে কাজ করেন স্থানীয়রা। তবে, গত বছরের নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এবং বিগত কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে এ বছর শুটকি উৎপাদন কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শুটকি উৎপাদনকারীরা।
পিরোজপুরে উৎপাদিত শুটকি রাসায়নিক দ্রব্যমুক্ত এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে শুটকি উৎপাদনের জন্য উৎপাদনকারীদের মৎস্য বিভাগ থেকে সার্বিক সহযোগীতা করা হয়।
বাংলা কার্তিক মাস থেকে শুরু হওয়া এ ব্যবসা চলে চৈত্র মাস পর্যন্ত। আর, এখান থেকে প্রতিবছর ১০০ টনেরও বেশি শুটকি উৎপাদন হয়, যার বাজার মূল্য অন্তত ৫ কোটি টাকা। তবে, অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ ব্যবসার উন্নয়নে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানসহ সরকারের কাছে সার্বিক সহযোগীতা কামনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।