জেলার সংবাদ

লালমনিরহাটে সরকারি চালের বস্তা পাল্টে বাজারে যাচ্ছে গুটি স্বর্ণা নামে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

শনিবার ৫ই আগস্ট ২০২৩ ০৪:০২:২৬ পূর্বাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ দুস্থ-অসহায় মানুষর জন্য বরাদ্দ সরকারি চালের বস্তা পরিবর্তন করে গুটি স্বর্ণা নামে বাজারে বিক্রি করছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা ব্যবসায়ীদের এসব সরকারি চাল দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, সরকার প্রতিবছর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে মিলারদের কাছ থেকে চাল ক্রয় করে থাকে। ক্রয়েরে পর প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারীত ওজনের বস্তায় এসব ভরা হয়। সেই চাল নির্ধারিত সুফল ভোগীর মাঝে বিতরণ ও বিক্রি করা হয়। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুফল ভোগীদের মাঝে ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে কার্ড প্রতি ৩০ কেজি  চাল নির্ধারিত ডিলারের মাধ্যমে বিক্রি করে। একইভাবে ভিজিডি কার্ডধারী সুফল ভোগীদের মাঝেও কার্ড প্রতি ৩০ কেজি হারে চাল বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। 

এসব চাল সুফল ভোগীদের কাছে বিক্রি না করে কৌশলে কালো বাজারে বিক্রি করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিনত হচ্ছেন অনেক অসাধু ব্যবসায়ী। এ ক্ষেত্রে তারা খাদ্য অধিদপ্তরের সীলমোহরযুক্ত বস্তা পরিবর্তন করে অন্য চাল আড়তের সীলযুক্ত বস্তায় প্যাকেট করে বাজারে সরবরাহ করছে। 

 

জানা যায়, বেসরকারি চাল আড়তগুলোর বাজারে সরবরাহ করা চাল প্রতি ছোট বস্তায় ২৫ কেজি ও বড় বস্তা ৫০ কেজি ওজনের। ৩০ কেজি ওজন শুধুমাত্র সরকারি চাল। এ কারণে চক্রটি সরকারি চালের ৩০ কেজির বস্তা পাল্টিয়ে ২৫ কেজি ওজনের নতুন বস্তায় প্যাকেট করে বাজারে বিক্রি করছে।  এ ক্ষেত্রে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদ কালোবাজারে বিক্রি করছে। একইভাবে নিম্নমানের চালকে গুটি স্বর্ণাসহ বিভিন্ন নামে ভুয়া সীলমোহর দিয়ে ক্রেতাদের প্রতারিত করছে অসাধু ব্যবসায়ী চক্রটি। 

সরেজমিনে কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিরাম চৌধুরী মোড় এলাকার মেসার্স অলিয়ার ট্রেডার্সের গুদামে গিয়ে দেখা যায় শত শত সরকারি চালের বস্তা। তা পরিবর্তন করে ২৫ কেজি ওজনের দিনাজপুরের চিতা বাঘ মার্ক গুটি স্বর্ণা নামে প্যাকেট করা হচ্ছে। প্যাকেট শেষ হলে দ্রুতই তা চলে যাচ্ছে জেলার সকল বাজারে।

মেসার্স অলিয়ার ট্রেডার্সের মালিক অলিয়ার রহমান প্রথমে ক্রেতার পরিচয়ে মুখ খুললেও পরে সাংবাদিক পরিচয়ে পুরো বিষয় গোপন করেন। অলিয়ার রহমান বলেন, সরকারি এসব চাল কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান কাঞ্চন ভাইয়ের। শুধু আমার কাছে না, বেশ কিছু গুদামে এসব চাল দেওয়া আছে। প্রায় দুইশত মেট্রিকটন চাল দিয়েছিল। আমরা শুধু বস্তা পরিবর্তন করে ৩০ কেজির স্থলে ২৫ কেজি করে পাঠিয়ে দেই। তিনি কোথায় কীভাবে বিক্রি করেন আমি জানি না। 

কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান কাঞ্চন বলেন, এসব চাল সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। গুদাম মালিককে আমি কোনভাবেই চিনি না। আমার নাম বললে হবে? আমার চাল হিসেবে তার কাছে কি ডকুমেন্ট আছে দেখেন। কোন অডিও বা কোন কাগজপত্র দেখাতে পারে কি না। অলিয়ার কেন আমার নাম বলেছে তা আমি জানি না। এর সাথে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহির ইমাম বলেন, আমরা এসব বিষয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। অনেকেই গোডাউনে গোপনভাবে এই প্যাকেটগুলো করছে। বিষয়টি আমি অবগত হলাম। অবশ্যই পদক্ষেপ নেবো।

 

এসব বিষয় জানতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্লাহর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সরকারি চাল কোনভাবে কোন গোডাউনে থাকার কথা নয়। কোন অসাধু ব্যবসায়ী যদি সরকারি চাল স্বর্ণা নামে প্যাকেটজাত করে তাহলে অবশ্যই ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  


ডিবিসি/কেএমএল

আরও পড়ুন