লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে কৃষকদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্থানীয় গ্রামবাসীদের ধাওয়ার মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে পালিয়ে যান। পরে পতাকা বৈঠকে বিএসএফ আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশ করলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সেসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম ফেরত দেয়।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তের ৯০৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় কয়েকজন বাংলাদেশি কৃষক ক্ষেতে কাজ করছিলেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা বেআইনিভাবে সীমানা অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করে এবং কৃষকদের মারধর শুরু করে। খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ধাওয়া দিলে বিএসএফ সদস্যরা নিজেদের দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে দ্রুত পালিয়ে যান।
ঘটনার খবর পেয়ে বনচৌকী ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফেলে যাওয়া অস্ত্র ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ওই সীমান্ত এলাকাতেই ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফের অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম এবং নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর ঘটনার কঠোর প্রতিবাদ জানায় বিজিবি।
জবাবে বিএসএফ কমান্ড্যান্ট এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্ক থাকা এবং জড়িত বিএসএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও জোরালো আশ্বাস দেন তিনি।
বৈঠক শেষে নির্ধারিত সরকারি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিজিবির হেফাজতে থাকা অস্ত্র ও ওয়াকিটকি বিএসএফ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ডিবিসি/এফএইচআর