লা লিগায় মৌসুমের প্রথম ম্যাচে এস্পানিওলের বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে ২-১ গোলের জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ম্যাচের ফল ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিনিসিয়ুসকে কটাক্ষ করে এস্পানিওল। কাতালান ক্লাবটির দাবি, ডাইভ দেওয়ার কারণে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো উচিত ছিল।
অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের অভিযোগ, বিশেষ করে অ্যালেক্স কালাত্রাভাসহ এস্পানিওলের খেলোয়াড়েরা বারবার ভিনিসিয়ুসকে ফাউল করলেও রেফারি তাঁকে যথেষ্ট সুরক্ষা দেননি।
রিয়াল কোচ হোসে মরিনিয়োও ভিনিসিয়ুসের মতো খেলোয়াড়দের সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা পালাক্রমে ফাউল করে বিপজ্জনক ফুটবলারদের থামানোর চেষ্টা করেন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-এর প্রকাশিত পরিসংখ্যানেও লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগে ভিনিসিয়ুসের প্রতি রেফারিদের আচরণে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে।
লা লিগায় সর্বাধিক ফাউলের শিকার ভিনিসিয়ুস
২০১৯-২০ মৌসুম থেকে এখন পর্যন্ত লা লিগায় সবচেয়ে বেশি ফাউলের শিকার হয়েছেন ভিনিসিয়ুস। তাঁকে মোট ৪৮৯ বার ফাউল করা হয়েছে।
এস্পানিওলের বিপক্ষেও একই ধারা অব্যাহত ছিল। ম্যাচটিতে তাঁকে আটবার ফাউল করা হয়, যা মাঠের যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লা লিগায় ভিনিসিয়ুসকে গড়ে ১৬ বার ফাউল করার পর প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেন। অথচ চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রতি তিনটি ফাউলেই প্রতিপক্ষকে একটি হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
বার্সেলোনার তারকা লামিন ইয়ামালের সঙ্গে তুলনা করলে পার্থক্যটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লা লিগায় ইয়ামালকে গড়ে তিনবার ফাউল করলেই প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেন।
লাল কার্ডের ক্ষেত্রেও ব্যবধান বড়। ভিনিসিয়ুসের বিরুদ্ধে প্রতি ৬৮টি গুরুতর ফাউলের পর প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেন। অন্যদিকে ইয়ামালের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি মাত্র ১১।
তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে রেফারিদের সিদ্ধান্ত প্রায় একই রকম। সেখানে ভিনিসিয়ুস ও ইয়ামাল-দুজনকে করা প্রতি তিনটি ফাউলের বিপরীতে প্রতিপক্ষ গড়ে একটি হলুদ কার্ড দেখে।
‘দ্বৈত নীতির’ অভিযোগ রিয়াল মাদ্রিদের
রিয়াল মাদ্রিদের বিশ্বাস, স্পেন ও ইউরোপের প্রতিযোগিতায় ভিনিসিয়ুসের প্রতি রেফারিদের আচরণ এক নয়। দুই জায়গাতেই একই ধরনের আক্রমণাত্মক ফাউলের শিকার হলেও লা লিগায় তিনি তুলনামূলকভাবে কম সুরক্ষা পাচ্ছেন।
মরিনিয়ো প্রকাশ্যেই ব্রাজিলিয়ান তারকার পক্ষে কথা বলেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা ম্যাচজুড়ে পালাক্রমে ভিনিসিয়ুসকে ফাউল করেন। কিন্তু সেই ধারাবাহিক অপরাধের যথাযথ শাস্তি প্রায়ই দেওয়া হয় না।
ভিনিসিয়ুসের মতো দক্ষ ড্রিবলাররা বেশি ফাউলের শিকার হবেন-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিপক্ষ যথেষ্ট শাস্তি না পেলে বারবার ফাউল করার সাহস পাবে, যা খেলোয়াড়টির চোটের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।
একই খেলোয়াড়কে লা লিগায় ১৬ বার ফাউল করার পর একটি হলুদ কার্ড দেখানো হলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে মাত্র তিনটি ফাউলেই কার্ড দেখানো হচ্ছে। এই বিশাল পার্থক্যই স্প্যানিশ রেফারিং নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের অভিযোগকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
ডিবিসি/ আরএফই