আন্তর্জাতিক

লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে সমুদ্রে ৩৭ জন সুদানি অভিবাসীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

নিজ দেশে চলমান যুদ্ধ থেকে বাঁচতে লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় অন্তত ৩৭ জন সুদানি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুদানের একটি তৃণমূল ত্রাণ ও প্রতিরোধ কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে।

‘এল-ফাশের প্রতিরোধ সমন্বয়’ নামের ওই কমিটি এক বিবৃতিতে জানায়, নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও একই পরিবারের একাধিক সদস্য রয়েছেন। নিরাপত্তার খোঁজে তারা সুদান ছেড়ে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নারী ও শিশুরা নিরাপত্তার সন্ধানে যাত্রা শুরু করেছিল, কিন্তু সমুদ্রেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।’ ঘটনাটিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের বেসামরিক নাগরিকদের মুখোমুখি হওয়া বৃহত্তর মানবিক বিপর্যয়ের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

 

কমিটির তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা সুদানের এল-ফাশের, এল-জেনেইনা, নিয়ালা, গেদারেফ, পূর্ব নীল, বাবানুসাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছিলেন।

 

বিবৃতিতে ৩৭ জন নিহতের নামের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় বেশ কয়েকজন শিশুর নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে সাত মাস বয়সী এক শিশু ছাড়াও ৩, ৬, ৮, ৯, ১২, ১৩ ও ১৬ বছর বয়সী শিশু-কিশোর রয়েছে।

 

সংগঠনটি জানায়, উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল-ফাশের সুদানের সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে শহরটির বেশ কয়েকজন বাসিন্দাও রয়েছেন।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মৃত্যু এল-ফাশেরের মানুষকে কোনো নিরাপদ পথ দেয়নি। শহরের ভেতরে, বাস্তুচ্যুতির পথে, অভিবাসনের পথে এমনকি সমুদ্রেও তাদের তাড়া করে ফিরছে মৃত্যু।’

 

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের মধ্যেই আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর এল-ফাশেরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ওই পরিস্থিতি সুদানের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন পর্যবেক্ষকেরা।

 

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাত চলছে। আধাসামরিক বাহিনীটিকে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই শুরু হয়।

 

চলমান এই যুদ্ধ বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে। সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

 

যুদ্ধের কারণে লাখ লাখ সুদানি নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের অনেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার অনেকে উন্নত জীবনের আশায় লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন পথ বেছে নিচ্ছেন।

 

সূত্র: আনাদলু

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন