ইউরোপের উন্নত জীবনের আশায় সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ১৮ বাংলাদেশিসহ ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার সময় গ্রিস ভূমধ্যসাগরে একটি রাবার বোট থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি নাগরিক।
তবে নিখোঁজ বা মারা যাওয়া ২২ জনের মরদেহ পাওয়া যায়নি; বেঁচে ফেরা যাত্রীদের দাবি, মরদেহগুলো পথেই সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
গ্রিসের কোস্টগার্ড ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি জানায়, শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছাকাছি এলাকায় একটি অভিবাসনপ্রত্যাশীবাহী নৌকা দেখতে পায় ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা 'ফ্রন্টেক্স'-এর একটি জাহাজ। সেখান থেকেই ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- বাংলাদেশি ২১ জন, দক্ষিণ সুদানি ৪ জন এবং শাদের নাগরিক ১ জন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশুও রয়েছে। বর্তমানে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধার পাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীরা গ্রিক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, তারা উত্তর আফ্রিকা উপকূল থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে রাবারের নৌকায় চড়ে রওনা হয়েছিলেন। যাত্রা পথে চরম প্রতিকূলতা ও দীর্ঘ সময়ের কারণে ২২ জন সঙ্গী মারা যান। নৌকায় জায়গা সংকুলান এবং পচন এড়াতে বাধ্য হয়েই মৃতদেহগুলো সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। ফলে কোস্টগার্ড উদ্ধার অভিযানে কোনো মরদেহ খুঁজে পায়নি।
বিপজ্জনক এই যাত্রাপথ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে গ্রিস বা ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টা আবারও বেড়েছে। মানবপাচারকারীরা জরাজীর্ণ ও অতিরিক্ত বোঝাই করা রাবার বোটে করে অভিবাসীদের উত্তাল সাগরে ঠেলে দিচ্ছে, যার ফলে প্রায়ই এমন ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
এই ঘটনার পর বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডিবিসি/এসএফএল