আন্তর্জাতিক, আরব

লেবাননে ফের হামলা: জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী নিহত, আহত ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে চালানো এক মর্টার হামলায় জাতিসংঘ অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিরক্ষা বাহিনীর আরও এক সদস্য নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ মে) ভোরে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মারজায়ুন এলাকার একটি শান্তিরক্ষী ঘাঁটিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইউনিফিল এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই ঘটনায় আরও দুই শান্তিরক্ষী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাদের ইউনিফিলের একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত শান্তিরক্ষী সার্বিয়ার নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।


ইউনিফিল জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই আহত শান্তিরক্ষীকে জরুরি চিকিৎসা দিয়ে হেলিকপ্টারযোগে বৈরুতের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান। এই মর্টার শেলটি কারা নিক্ষেপ করেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী এবং হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের মাঝেই এই ঘটনা ঘটল। পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


এক বিবৃতিতে ইউনিফিল জানায়, শান্তিরক্ষীদের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের মারাত্মক লঙ্ঘন। এটি যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।


লক্ষণীয় বিষয় হলো, বুধবার (৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্র যখন লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেয়, তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এই চুক্তিটির আওতায় হিজবুল্লাহকে রাখা হয়নি। নতুন চুক্তি অনুযায়ী কিছু পাইলট জোন বা পরীক্ষামূলক এলাকা তৈরি করা হবে, যার নিয়ন্ত্রণ থাকবে লেবাননের মূল সেনাবাহিনীর হাতে।


উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগে ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর, ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরাইলে রকেট হামলা চালায়। এর পর থেকেই লেবানন সীমান্তে সংঘাত তীব্র রূপ নেয়।


জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, চলমান এই সহিংসতার কারণে লেবাননে এ পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।


জাতিসংঘ শিশু তহবিলের মুখপাত্র ক্রিস্তফ বুলিয়াক জানান, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের পরিবারগুলো এতটাই আতঙ্কিত যে তারা রাতে নিজেদের ঘরে থাকার সাহস পাচ্ছে না। অনেকেই দিনের বেলা এসে ঘরবাড়ি দেখে যান এবং রাত হওয়ার আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।


গত সোমবার ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে বিমান হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি থেকে হাজার হাজার গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বুধবার এক ব্রিফিংয়ে জানান, ১ জুনের ইসরাইলি উচ্ছেদ আদেশের পর কেবল বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি থেকেই প্রায় ২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।


ইউনিফিল দক্ষিণ লেবাননে এই সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছে।


সূত্র: জাতিসংঘের খবর


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন