লেবাননে গত বুধবার (৮ এপ্রিল) ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনা চালিয়ে যাওয়াকে ‘অযৌক্তিক’ বলে আখ্যায়িত করেছে ইরান। ইসরায়েলের এই বিধ্বংসী হামলায় কয়েক শ মানুষের প্রাণহানির জেরে তেহরান এখন পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।
অথচ গত মঙ্গলবারই (৭ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা এই হামলার কারণে এখন ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বর্তমানে চরম অস্থিতিশীল। লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়েই দাবি করেছে যে, ইরানের সঙ্গে হওয়া দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন পড়ে না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, লেবাননে তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে। এদিকে, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বর্তমানে হাঙ্গেরি সফরে রয়েছেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইরানিরা হয়তো ভেবেছিল যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তা নয়।
অন্যদিকে, গতকাল এক বিবৃতিতে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও জোরদার করার মাধ্যমে ইসরায়েল ইতিমধ্যে যুদ্ধবিরতির বেশ কয়েকটি শর্ত লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার শর্ত জুড়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও চুক্তির অবমাননা করছে। এমন পরিস্থিতিতে গালিবাফ দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়াকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।
এই শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান টানাপোড়েনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে রাজি হয়েছে এবং মজুত করা ইউরেনিয়াম হস্তান্তরেরও ইঙ্গিত দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প আরও লেখেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে মিলে মাটির গভীরে থাকা সব পরমাণু উপাদান খনন করে সরিয়ে ফেলবে। তবে ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে গালিবাফ জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এফএইচআর