হিজবুল্লাহর সেক্রেটারি জেনারেল শেখ নাঈম কাসেম বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরায়েলি শাসনের কোনো ষড়যন্ত্রই লেবাননে সফল হবে না। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, লেবানন কোনো দুর্বল দেশ নয় এবং এটি কোনো বিদেশি শক্তির অভিভাবকত্ব বা অধীনে নেই।
শেখ নাঈম কাসেম তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেত এবং সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় লেবাননে তাদের আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য হলো লেবাননের নাগরিকদের বৈধ অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং তাদের ভূখণ্ড দখল করা। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর প্রধান লক্ষ্য হলো দখলকৃত ভূমি মুক্ত করা।
তিনি এই সময়টিকে অঞ্চলের ইতিহাসের এক ক্রান্তিকাল হিসেবে অভিহিত করে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদদে জায়নবাদী শত্রু আমাদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। তবে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের অটল মনোভবই লেবানন ও আগামী প্রজন্মের মর্যাদা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।
লেবাননে বর্তমানে কোনো কার্যকর যুদ্ধবিরতি নেই উল্লেখ করে হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, সেখানে মূলত মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল এ পর্যন্ত ২০ হাজারেরও বেশি বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। লেবাননের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য একটি সুদৃঢ় নিশ্চয়তা প্রয়োজন। ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশ দখল করে সেখানে গাজা উপত্যকার মতো তথাকথিত ইয়েলো লাইন বা সামরিক বাফার জোন তৈরি করেছে।
বৈরুত সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন শেখ কাসেম। তিনি বলেন, শত্রুর সাথে সরাসরি আলোচনা মানে তাদের বিনা মূল্যে ছাড় দেওয়া। কূটনীতি তখনই কার্যকর হয় যখন তা আগ্রাসন বন্ধ করতে এবং চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়ক হয়।
তিনি বর্তমান সংকট উত্তরণে চারটি প্রধান উপাদানের ওপর জোর দিয়েছেন:
১. নিরবচ্ছিন্ন প্রতিরোধ।
২. অভ্যন্তরীণ সংহতি ও ঐক্য।
৩. আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সদ্ব্যবহার।
৪. ইসরায়েলের ওপর জোরালো চাপ সৃষ্টি করা।
উল্লেখ্য যে, গত ২ মার্চ ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে হিজবুল্লাহ সামরিক অভিযান শুরু করে। পরবর্তীকালে ৮ এপ্রিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে লেবাননে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও, ইসরায়েলি বাহিনী দ্রুত সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে দক্ষিণ লেবাননে হামলা ও উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২ মার্চের পর থেকে নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ২,৫০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
শেখ নাঈম কাসেম তার বক্তব্যের শেষে হিজবুল্লাহর তরুণ যোদ্ধাদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার জন্য লেবানন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল