লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর একটি বিস্ফোরক ড্রোন হামলায় এক ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং অপর দুই রিজার্ভিস্ট আহত হয়েছেন। গত বুধবার (২৭ মে) সীমান্তের ইসরায়েল অংশে একটি সামরিক জোনে জোড়া ড্রোন হামলার সময় আশ্রয়কেন্দ্রে দৌড়ে যাওয়ার পথে ২০ বছর বয়সী সার্জেন্ট রোতেম ইয়ানাই নিহত হন।
ড্রোনের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই এলাকায় সতর্কতা সাইরেন বাজলেও সেগুলোকে প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। এই হামলার জবাবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরের চারপাশে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করেছে। এর আগে ইসরায়েলি সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব লেবাননে স্থল অভিযান সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়ে সীমান্ত থেকে ৪০ কিলোমিটার (২৫ মাইল) দূর পর্যন্ত এলাকা খালি করার নির্দেশ জারি করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হামলার পর, গত ২ মার্চ থেকে ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর আক্রমণ শুরুর পর থেকে এ নিয়ে ২৪ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হলেন। গত মাসে কার্যকর হওয়া এবং বর্তমানে প্রায় ভেঙে পড়া যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে লেবানন ফ্রন্টে ইয়ানাইসহ ১১ জন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। জ্যামিং প্রযুক্তি এড়াতে সক্ষম হিজবুল্লাহর বিশেষ ড্রোন, রকেট ও ইউএভি-র ক্রমাগত আক্রমণ প্রতিহত করতে ইসরায়েল বেশ হিমশিম খাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালেও লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা টায়ার শহর ও এর পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের সেনারা ইতিমধ্যে সীমান্ত থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ সীমানার বাইরে গিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গত সপ্তাহের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার এই সাম্প্রতিক লড়াইয়ে লেবাননে ৩,০০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে কয়েক শত মানুষ মারা গেছেন ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির সময়েই। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা এ পর্যন্ত হিজবুল্লাহর এলিট রাডওয়ান ফোর্সের শত শত সদস্যসহ ২,০০০-এরও বেশি যোদ্ধাকে হত্যা করেছে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
ডিবিসি/এফএইচআর