রণাঙ্গনে, বিশেষ করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তেহরানের আরোপিত নতুন নীতিমালা মেনে নিতে শত্রুপক্ষ বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি ইমাম খোমেনীর প্রয়াণ দিবস এবং ১৯৬৩ সালের শাহ-বিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়।
বুধবার (৩ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, ইরানি জাতি ও তাদের সশস্ত্র বাহিনী রণাঙ্গনে এমন কিছু নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে যা ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের মেনে নিতেই হবে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি উল্লেখ করে, শত্রুপক্ষ রণাঙ্গনে ইরানি জাতি ও সশস্ত্র বাহিনীর আরোপিত নতুন নিয়মগুলো মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির স্মার্ট ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে।
পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সামরিক আগ্রাসনের মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য এলো। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতেও কেশম দ্বীপে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা চালায়। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধও চলমান রয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এবং খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, অহংকারী শক্তিগুলোর ষড়যন্ত্রের সম্পূর্ণ ধ্বংস, পশ্চিম এশিয়া থেকে বিদেশি সেনা বহিষ্কার এবং ইসরায়েলি শাসনের পতনের মাধ্যমে আল-কুদস (জেরুজালেম) মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিরোধ সংগ্রাম চলবে।
টানা ৯০ রাতেরও বেশি সময় ধরে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনে সাধারণ মানুষের রাজপথে বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে আইআরজিসি জানায়, জনগণের এই উপস্থিতিই রণাঙ্গনের মেরুদণ্ড, কূটনীতির দুর্গ এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের প্রধান হাতিয়ার।
৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক ও চূর্ণকারী বিজয় ঘোষণা করেছে ইরান। তেহরান দাবি করেছে, ওয়াশিংটন ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। এই প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং এ অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।
এ বছরের খোমেনী প্রয়াণ দিবস ও ৫ জুনের ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান বার্ষিকী এমন এক সময়ে উদযাপিত হচ্ছে, যখন ইরান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি সন্ত্রাসী বিমান হামলায় নিহত দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি-এর শাহাদাতের শোকে মূহ্যমান।
ইতিমধ্যে তেহরানের ভালিআসর স্কয়ারে একটি বিশাল ব্যানার প্রদর্শিত হচ্ছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রয়াত ইমাম খোমেনীর উপস্থিতিতে সদ্য শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশের জাতীয় পতাকা নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনেই-এর হাতে তুলে দিচ্ছেন।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল