ইরানি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক অভিযান ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, যতক্ষণ না শত্রুরা 'প্রকৃত অনুশোচনার' জায়গায় পৌঁছাবে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা অব্যাহত আগ্রাসনের পরও শত্রুপক্ষের উদ্দেশ্য অর্জিত হয়নি। সেনাবাহিনীর এ মুখপাত্র জানান, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শাসনব্যবস্থা পূর্ণ কর্তৃত্বের সঙ্গে টিকে আছে, হুমকির জবাব দিয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা হুমকিও কার্যকর করতে সক্ষম হয়েছে। বস্তুত, প্রতিপক্ষ এখানে পরাজিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আকরামিনিয়ার মতে, এ প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো শত্রুর মনে অনুশোচনার একটি স্থায়ী অনুভূতি তৈরি করা, যা ভবিষ্যতের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত প্রতিরোধ ব্যবস্থা (ডেটারেন্স) হিসেবে কাজ করবে। কেউ কেউ এই দৃষ্টিভঙ্গিকে আবেগপ্রবণ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এ পদক্ষেপটি 'সম্পূর্ণরূপে কৌশলগত যৌক্তিকতার ওপর ভিত্তি করে' নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে শত্রুকে এ পর্যায়ে নিয়ে আসা অপরিহার্য।
এ লক্ষ্য অর্জিত হলে প্রতিরোধের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যে, শত্রুরা আর কখনোই ইরানের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস পাবে না। যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ও বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির মুখে শত্রুরা এখন যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানি সশস্ত্র বাহিনী এখন পর্যন্ত অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে অধিকৃত অঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা এবং পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন দখলদার ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ৯৭ ধাপে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এএমটি