দীর্ঘ প্রায় ১১০ দিনের যুদ্ধ শেষে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়েছে। এই চুক্তিকে নিজেদের মহিমান্বিত বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড। তাদের দাবি, ইরানি জাতি তাদের ইস্পাতকঠিন সংকল্প শত্রুদের ওপর সফলভাবে চাপিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) ভোরে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়। বিবৃতিতে ১০০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে অবদানের জন্য ইরানের আপামর জেনতা, সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের (রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট) যোদ্ধাদের অভিনন্দন জানানো হয়।
সর্বশক্তিমান আল্লাহর অনুগ্রহে এবং ইসলামী বিপ্লবের নেতার (আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি) যোগ্য কমান্ডে, ইরানের জনগণ ও তাদের যোদ্ধারা প্রমাণ করেছে যে-হতভাগ্য মার্কিন ও জায়নবাদী শত্রুদের পরাজয় এবং আত্মসমর্পণ মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
বিবৃতিতে আরও জোর দিয়ে বলা হয়, ইরানি জাতির এই ঐশ্বরিক সংকল্প এখন যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি অভেদ্য প্রাচীর হিসেবে দাঁড়িয়েছে এবং এটি প্রমাণ করেছে যে, প্রতিরোধই বিজয়ের একমাত্র পথ।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত এই সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত হয়েছে। আজ ভোরে দেশটির উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী স্থানীয় গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন যে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তৈরি হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক-এর খসড়াটি চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে।
ঘারিবাবাদী বলেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। তিনি আরও ঘোষণা করেন, আজ রাত থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধের অবসান ঘটছে। একই সাথে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে।
এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির বিষয়টি প্রথম নিশ্চিত করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তান এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল।
শাহবাজ শরিফ ঘোষণা করেন, নিবিড় আলোচনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় ১১০ দিন আগে মার্কিন-ইসরায়েলি জোট ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ শুরু করে। গত এপ্রিলের শুরুতে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও আগ্রাসী শক্তিগুলো সাগরে ইরানি জাহাজে হামলা এবং লেবাননে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছিল। ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল, যুদ্ধ সমাপ্তির যেকোনো চুক্তিকে অবশ্যই সব ফ্রন্টে কার্যকর হতে হবে এবং ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল