পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবেবরাত, যা হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত মধ্যরাতে পালিত হয়। মুসলিম উম্মাহর কাছে এই রাতটি আত্মশুদ্ধি, তওবা এবং মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার এক অনন্য ও মহিমান্বিত রজনী হিসেবে বিবেচিত। হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, এই বিশেষ রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি প্রদান করেন, যার ফলে অসংখ্য মানুষ নিজেদের গুনাহ মাফ করানোর পরম সুযোগ লাভ করেন।
পবিত্র এই রজনী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার মসজিদগুলোতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের আশায় মুসলমানরা নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার এবং বিশেষ দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করছেন। প্রতিটি মসজিদেই বিরাজ করছে এক আধ্যাত্মিক ও আবেগঘন পরিবেশ।
পবিত্র লাইলাতুল বরাত উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিশেষ উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত পরিবেশন, ওয়াজ মাহফিল এবং দোয়া ও মোনাজাত।
মাগরিবের নামাজের পর থেকেই মুসল্লিরা দলে দলে বায়তুল মোকাররমে সমবেত হতে শুরু করেন এবং নামাজ আদায়ে মশগুল হন। মাগরিব পরবর্তী সময়ে লাইলাতুল বরাতের তাৎপর্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করা হয়। পরবর্তীতে এশার নামাজের পর পুনরায় ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং সবশেষে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মোনাজাত।
এই বিশেষ মোনাজাতে মুসল্লিরা মহান আল্লাহর কাছে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং চোখের পানিতে বুক ভাসান। পাশাপাশি ব্যক্তি জীবন, জাতি এবং দেশের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। মোনাজাত শেষে উপস্থিত মুসল্লিরা জানান, তারা মূলত গুনাহ মাফ এবং ইহকাল ও পরকালের শান্তির আশায় মহান রবের দরবারে হাত তুলেছেন।
রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের প্রতিটি প্রান্তের মসজিদে আজ সারারাত নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির এবং তওবার মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য কামনায় রত থাকবেন। ধর্মীয় এই ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়েই অতিবাহিত হচ্ছে মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রজনী।
ডিবিসি/এএমটি