শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে পারিবারিক কলহের জেরে ছোট ভাইয়ের হামলায় আমির হোসেন সরদার (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ১০টার দিকে গোসাইরহাট পৌরসভার মিত্রসেনপট্টি এলাকায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছোট ভাই জুয়েল সরদার (২৭) পলাতক রয়েছেন। নিহত আমির হোসেন সরদার ওই এলাকার মৃত গনি সরদারের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছোট ভাই সোহেল সরদারের (২৩) তিন হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যান মেজ ভাই জুয়েল সরদার। এই টাকা চুরিকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে বিষয়টি বড় ভাই আমির হোসেনকে জানানো হয়। আমির হোসেন ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে জুয়েলকে একটি চড় মেরে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন।
এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে জুয়েল কিছুক্ষণ পর একটি কাঠের টুকরা নিয়ে ফিরে আসেন এবং রাস্তার পাশে বসে মোবাইল দেখতে থাকা আমির হোসেনের মাথায় পিছন থেকে সজোরে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় আমির হোসেন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করেন। তবে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অ্যাম্বুলেন্সে আমির হোসেনের মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী লাইজু বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, দুই ভাইয়ের ঝগড়া মীমাংসা করতে গিয়েই জুয়েল তার স্বামীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়। পিছন থেকে কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করার পর তার স্বামী শেষবারের মতো শুধু বলেছিলেন, "আমাকে তাড়াতাড়ি হাসপাতাল নে।" কিন্তু দ্রুত হাসপাতালে নিয়েও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
গোসাইরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত জুয়েল সরদারকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
ডিবিসি/টিবিএ