ঘাতক স্ত্রী আটক

শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহের টুকরো অংশ ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা!

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে প্রবাসী স্বামী জিয়া সরদারকে হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করে গুমের চেষ্টার ঘটনায় ঘাতক স্ত্রী আসমা আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ। স্বামীর খণ্ডিত মরদেহের অংশবিশেষ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার চেষ্টার সময় স্থানীয়দের তৎপরতায় তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহের টুকরোগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী আসমা আক্তার ভারী লোহার টুকরো দিয়ে জিয়ার মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খুনের ঘটনা আড়াল করতে আসমা ধারালো ছুরি দিয়ে স্বামীর হাত, পা ও মাথা কেটে আলাদা করেন। এরপর হাত-পা বস্তাবন্দি করে নড়িয়ার মূলফৎগঞ্জ নদীর পাড়ে এবং মাথা ও দেহের বাকি অংশ সদরের আটং এলাকার পুকুর পাড়ে ফেলে আসেন।

 

এ হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহের অবশিষ্টাংশ ও মাংস আলাদা করে আরেকটি বস্তায় ভরে পালং উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বাড়ির ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা চালান ওই নারী। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দিলে তাকে আটক করা হয়। প্রবাসী স্বামীর এমন নৃশংস পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তারা ঘাতক স্ত্রীর দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহে আলম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসমা আক্তারকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তিনি স্বামীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একে একে মরদেহের সবকটি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের অংশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা এবং এর পেছনে পরকীয়া বা আর্থিক কোনো বিরোধ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন