শরীয়তপুরে সম্প্রতি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা, যা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আধিপত্য বিস্তার, পারিবারিক কলহ, জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং অর্থ লেনদেনের মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ১০ মাসে জেলায় অন্তত ২৯টি খুনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে পারিবারিক কলহে ৮ জন এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৪ সালে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ২০ হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলায় ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে গত ২৬শে আগস্ট জাজিরায় মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে খুন হন খবির সরদার। এর ঠিক একদিন পরেই উদ্ধার করা হয় খবির হত্যা মামলার আসামি আলমাছ সরদারের বস্তাবন্দি মরদেহ। এছাড়া গত ২১শে অক্টোবর শরীয়তপুর সদরে একটি ভাড়াবাসায় শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় নাজমা বেগমকে। এর আগে ২৮শে সেপ্টেম্বর ভেদরগঞ্জে সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয় ছয় বছরের শিশু তাইয়েবার মরদেহ এবং তার এক মাস আগে জাজিরায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় সোনাবিবি নামের এক বৃদ্ধাকে। মে-জুন মাসেও জেলায় আরও দুইজন খুনের শিকার হন।
স্থানীয় সুশীল সমাজ ও আইনজীবীরা এই পরিস্থিতির জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিচারকাজে দীর্ঘসূত্রিতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করছেন। শরীয়তপুর জেলা সুশীল সমাজের সহ-সভাপতি মুরাদ মুন্সী এবং জজ কোর্টের আইনজীবী আসাদুজ্জামান জুয়েল মনে করেন, অপরাধীদের দ্রুত বিচার না হওয়া এবং সামাজিক অস্থিরতাই অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও প্রতিটি খুনের ঘটনা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, চলতি বছরের ২৯টি মামলার মধ্যে পুলিশ ইতোমধ্যে ৪টির অভিযোগপত্র দাখিল করেছে এবং ২টির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। বাকি ২৩টি মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
ডিবিসি/পিআরএএন