শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় সংসদের হুইপের ভাই পরিচয় দিয়ে তদবির করতে গিয়ে থানার বাবুর্চি আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. মোশাররফ হোসেন উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। মোশারফ হোসেন থানার বাবুর্চি হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া তিনি শিধলকুড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, মোশারফ হোসেন থানার বাবুর্চি হওয়ার কারনে বিভিন্ন সময় থানার বিভিন্ন পরিচয়ে অপকর্ম করে ধরা খেয়েছিলো। সে সময় বিভিন্ন কারনে সেখান থেকে তিনি ছাড়া পেয়ে যান। এলাবাসীর দাবি চিহ্নিত এ প্রতারককে যেন কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। যাতে কোন কারনে সে আইনের ফাঁক দিয়ে ছাড় না পায়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত মোশাররফ হোসেন নিজেকে শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর আপন ভাই পরিচয় দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন তদবির করছিলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তার পরিচয়ের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ নিশ্চিত হলে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালাহউদ্দিন আইয়ুবী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
এ বিষয়ে ইউএনও মো. সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বলেন, সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার সকালে মোশাররফ হোসেন আমাকে ফোন দিয়ে হুইপের ভাই পরিচয়ে অনৈতিকভাবে তদবির করে। বিষয়টি আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আমার দপ্তরে আসতে বলি এবং জিজ্ঞাসাবাদ করি। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ফোন করেছেন। পরে তাকে বিধি মোতাবেক ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ডিবিসি/এফএইচআর