ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। এই মহাকাব্যিক জয়ের সুবাদে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের ইতিহাসে এই প্রথম সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে টিম বাংলাদেশ। তবে এমন অভাবনীয় অর্জনের পরও আত্মতৃপ্তিতে ভুগতে রাজি নন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। পাকিস্তানকে ধবলধোলাইয়ের মিশন শেষ হতেই বাংলাদেশ অধিনায়কের চোখ এখন ভবিষ্যতের কঠিন সব অ্যাওয়ে সিরিজে, বিশেষ করে আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরে।
বুধবার (২০ মে) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ৭৮ রানের দাপুটে জয়ে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানটি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছে দল। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ঘরের মাঠে পেস-সহায়ক উইকেটে দল যে উন্নতির ঝলক দেখিয়েছে, তা এবার বিদেশের মাটিতেও প্রমাণ করার সময় এসেছে। টানা ১০ দিনে দুটি টেস্ট খেলে দুটিতেই এমন দাপুটে জয় পাওয়া সহজ ছিল না উল্লেখ করে এই পুরো কৃতিত্ব দলের ক্রিকেটার ও গ্রাউন্ডসম্যানদের দেন তিনি। শান্ত বলেন, ‘কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের, তারা কঠোর পরিশ্রম করেছে। আমরা কিছু পরিবর্তন এনেছি, দল গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট দেখুন, দল গড়ে তুলতে হলে আপনাকে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। আশা করি, আমরা এভাবেই খেলে যাব।’
মিরপুর ও সিলেটের উইকেট এবং নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘কিউরেটর ও খেলোয়াড়দের সব কৃতিত্ব দিতে হবে। আমরা দারুণ প্রস্তুতি নিয়েছি, এটা আমাকে এমন কন্ডিশনে ভালো করতে সহায়তা করেছে। ফাস্ট বোলাররা এই গরমে এবং ফ্ল্যাট উইকেটে দারুণ করেছে। এই উন্নতি আমরা সবসময় চেয়েছি। আমাদের দারুণ পার্টনারশিপ হচ্ছে। টেল এন্ডাররাও অবদান রাখছে। আমরা এসব জায়গায় উন্নতি চেয়েছিলাম, আশা করি ধরেও রাখতে পারব।’
বাংলাদেশের পরবর্তী টেস্ট মিশন ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম কঠিন কন্ডিশন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। তবে সেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত শান্ত বলেন, ‘এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো অ্যাওয়ে সিরিজ। আমরা গত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বিদেশের মাটিতে ভালোই করেছি। এ বছর চ্যালেঞ্জিং কিছু সফর আছে, নতুন অভিজ্ঞতা হবে। ভালো খেলতে থাকলে সেখানেও ভালো করব, ইনশাআল্লাহ।’
দলকে আরও পরিপক্ব ও পেশাদার করতে আইসিসি এবং বড় দলগুলোর বিপক্ষে বেশি বেশি ম্যাচ খেলার আকুতি জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারতের মতো দলগুলোর সাথেও বেশি বেশি টেস্ট খেলতে চাই, হোম ও অ্যাওয়ে দুটোতেই। কারণ, আমরা যখন ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব, ওই নতুন অভিজ্ঞতাগুলো যখন আমাদের হবে, তখনই দল আস্তে আস্তে গড়ে উঠবে।’ আইসিসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে শান্ত আরও বলেন, ‘আশা থাকবে যে আইসিসি আমাদের বেশি বেশি করে সব দলের সাথে টেস্ট ম্যাচ দিবে। এখন আমরা আগের চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি এটা একটা ইতিবাচক দিক, কিন্তু অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারতের সাথেও যদি আমরা আরও নিয়মিত ম্যাচ খেলতে পারি, অবশ্যই এটা আমার দলের জন্য আরও ভালো হবে।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে পেসারদের অনবদ্য পারফরম্যান্স, নিচের সারির ব্যাটারদের অবদান এবং চমৎকার জুটির যে নতুন সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনেও ধরে রাখাই এখন শান্ত বাহিনীর মূল লক্ষ্য।
ডিবিসি/এফএইচআর