খেলাধুলা, ফুটবল

শান্তিতে ঘুমাও বাবা, ওপর থেকে আমাদের দেখে রেখো: মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কিছুদিন আগেই বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন ভেঙেছিল আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির। সেই হতাশা পেছনে ফেলে ইন্টার মায়ামির শিবিরে ফিরেছিলেন ফুটবল জাদুকর। তবে এবার তিনি পেলেন আরও বড় এক ব্যক্তিগত ধাক্কা। ৬৮ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তাঁর বাবা জর্জ মেসি।

বাবার মৃত্যুর পর প্রথমবার মুখ খুলেছেন মেসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বাবার সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে দীর্ঘ ও আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

 

মেসি লিখেছেন, ‘বাবা, তোমার চলে যাওয়াটা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। বাস্তবতাটা এখনও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি। হয়তো আমি এটা মেনে নিতেই চাইছি না। তোমাকে আর দেখতে পাব না, তোমার সঙ্গে আর কখনো কথা হবে না—এটা ভাবাও আমার জন্য খুব কঠিন। আমি জানি তুমি অনেক কষ্টে ছিলে, হয়তো চলে যাওয়াটাই তোমার জন্য শান্তির হয়েছে। কিন্তু তুমি খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলে। আমাদের একসঙ্গে আরও কত কিছু উপভোগ করার বাকি ছিল।’

 

বাবার অনুরোধেই উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে খেলেছিলেন বলে জানান মেসি। তিনি লেখেন, ‘শেষ বিশ্বকাপটা খেলতে তুমি আমাকে কতবার অনুরোধ করেছিলে! অথচ টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক দিন আগেই তোমার শারীরিক অবস্থার সবচেয়ে বেশি অবনতি হলো। মা বলছিলেন, তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে এবং খেলা দেখতে আসতে পারবে। আমিও তোমাকে বলেছিলাম, আমরা ফাইনালে উঠবই, যাতে তুমি আসার সুযোগ পাও।’

 

প্রতিটি ম্যাচের পর বাবার বার্তার অপেক্ষায় থাকতেন জানিয়ে মেসি বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচ শেষে আমি তোমার মেসেজের অপেক্ষায় থাকতাম। তখন তোমাকে ভীষণ মিস করতাম। সেই সময়ই বুঝতে পেরেছিলাম পরিস্থিতি কতটা কঠিন। তারপরও আমার একটাই লক্ষ্য ছিল-যতদূর সম্ভব এগিয়ে যাওয়া, যাতে তুমি সুস্থ হওয়ার জন্য আরও কিছুটা সময় পাও এবং অন্তত একটি ম্যাচ মাঠে এসে দেখতে পারো।’

 

‘আমরা ফাইনালে পৌঁছালাম, কিন্তু তুমি আসতে পারলে না। আমি কাপটা জিততে চেয়েছিলাম, যাতে তোমার কাছে নিয়ে গিয়ে আরেকটি নতুন ট্রফি দেখাতে পারি। কিন্তু সেটাও আর হলো না।’

 

বিশ্বকাপ শেষে বাবার সঙ্গে দেখা হওয়ার স্মৃতিও তুলে ধরেন মেসি। তিনি লেখেন, ‘আমি যখন ফিরে এলাম, তুমি ভেবেছিলে আমরা পেনাল্টিতে ফাইনাল হেরে গেছি। যা কিছু ঘটেছিল, তা নিয়ে আমরা ঠিকমতো কথাও বলতে পারিনি। তুমি কিছুই উপভোগ করতে পারলে না। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি ঠিকই, কিন্তু প্রতিটি ম্যাচ আমরা কতটা উপভোগ করেছি, সেটাও তোমাকে বলতে পারিনি। আবারও তুমি ঠিক প্রমাণিত হলে—আমার সেখানে যাওয়া এবং খেলাটাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত।’

 

বাবাকে হারিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন মেসি। তিনি লেখেন, ‘তোমাকে ছাড়া আমি কীভাবে সামনে এগোব, জানি না। আমি তো শুধু ফুটবল খেলতেই শিখেছি। এখন নিজের মনেই প্রশ্ন জাগছে, আর কতদিন খেলতে পারব। শুরু থেকেই তুমি আমার পাশে ছিলে। শেষটা তো খুব বেশি দূরে ছিল না। আর একটু সময় কেন থাকলে না বাবা? তাহলে হয়তো আমরা একসঙ্গেই শেষটা দেখতে পারতাম।’

 

বাবাকে নিজের ‘সেরা বন্ধু’ ও ‘প্রতিনিধি’ হিসেবেও উল্লেখ করেন মেসি। তাঁর ভাষায়, ‘তুমি শুধু আমার বাবা ছিলে না, তুমি ছিলে আমার সেরা বন্ধু এবং প্রতিনিধি। প্রতিটি মুহূর্তে যেভাবে আমার পাশে থাকা দরকার ছিল, তুমি ঠিক সেভাবেই থেকেছ। ছোটখাটো অভিমান কিংবা ঝগড়া হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রায় সব সময়ই তোমার কথাই ঠিক প্রমাণিত হয়েছে।’

 

সবশেষে বাবার উদ্দেশে মেসি লেখেন, ‘তোমাকে অনেক অনেক মিস করব বাবা। তবে তুমি সবসময় আমাদের মাঝেই থাকবে। তোমরা আমাকে যেভাবে বড় করেছ, আমিও আমার সন্তানদের সেই মূল্যবোধেই বড় করার চেষ্টা করছি।’

 

‘শান্তিতে ঘুমাও বাবা। ওপর থেকে আমাদের সেভাবেই আগলে রেখো, যেভাবে এখানে থাকতে আগলে রাখতে। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।’

‘তোমাকে অনেক ভালোবাসি, বাবা।’

 

ডিবিসি/ আরএফই

আরও পড়ুন