অপরাধ

শিশু রামিসা হত্যা: স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলাকেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। মাত্র চার কার্যদিবসে বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে এই মামলার দ্রুততম রায় প্রদান করা হলো।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানান, হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রধান আসামি সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না করায় এটি প্রমাণিত হয় যে, সে স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করেছে। অন্যদিকে, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর স্বামীকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অপরাধে স্ত্রী স্বপ্নাকেও এই সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

 

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রোববার সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বপ্না খাতুনকে এবং এর কিছুক্ষণ পর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কড়া নিরাপত্তায় ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছিল।

 

চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচারকাজ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে শেষ হয়েছে। গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়। পরদিন ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম দিনেই ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও, ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ৭ জুন রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।

 

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা বাসা থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে সোহেলের দরজার সামনে তার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন ও রামিসার বাবা-মা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং একটি বড় বালতির ভেতর বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান তারা।

 

ভয়াবহ এই দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরদিন, ২০ মে পল্লবী থানায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।

 

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন