বাংলাদেশ, জাতীয়

শীঘ্রই পুরোদমে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত ভিসা কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

শনিবার ২রা মে ২০২৬ ০৫:৫২:৫১ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর নানা অস্থিরতার পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে দিল্লি ও ঢাকা পুরোদমে ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু করে প্রথম পদক্ষেপ নিচ্ছে। দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।

দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে আরো বলা হয়, প্রায় দেড় বছর টানাপড়েনের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অংশ হিসেবে পুরোদমে ভিসা কার্যক্রমে ফেরার ভারত এ উদ্যোগ নিচ্ছে। এর আগে গত মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফরের সময় অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা স্বাভাবিক করা। সেই ফলপ্রসু আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্তের খবর পাওয়া গেল।

 

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে আমাদের কিছু কেন্দ্রে ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়েছিল। পরে ফেব্রুয়ারিতে তা পুনরায় চালু করা হয়েছে।

 

 ফেব্রুয়ারিতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি ঢাকা সফর করেন।

 

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটলে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। এরপর গত ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে এই দূরত্ব আরো বেড়ে যায়। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় একদল লোক। সেসময় ঢিলও ছোড়া হয় মিশনে।

 

এরপর চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা আবেদন কার্যক্রম ২১ ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করে আইভ্যাক। পরদিন পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দিল্লি ও আগরতলা মিশন থেকে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ। 

 

তবে এর মধ্যে নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্যে দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল আসার আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে তারেক রহমানকে এক বিবৃতিতে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণার পর বিকালে তারেকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি। ওই ফোনালাপে তাকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তার কাজে সমর্থনের দেওয়ার কথা বলেন।

 

অন্যদিকে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানায় ঢাকা। তবে ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের’ কারণে তিনি শপথ অনুষ্ঠাতে আসতে পারবেন না বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়। তাই নরেন্দ্র মোদির পরিবর্তে শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

 

ডিবিসি/ এইচএপি  

আরও পড়ুন