শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে এই মামলায় পলাতক ৩৩ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদেশের আগে চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালকে জানান, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে প্রসিকিউশন ৫৮ জন নিহতের প্রমাণ পেয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় এই নিহতের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন রাত ১১টার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যৌথ অভিযান চালায়। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড, গুলি ও লাঠিচার্জ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।
এই মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনীতিক ও সাংবাদিক রয়েছেন। আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও ড. হাছান মাহমুদ, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য পেশার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, হাসান মাহমুদ খন্দকার, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, র্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, বিপ্লব কুমার সরকার, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, আবদুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন, মনিরুল ইসলাম, পুলিশ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, আশরাফুজ্জামান, এসএম মেহেদী হাসান, মো. আসাদুজ্জামান, এসএম শিবলী নোমান ও বিএম ফরমান আলী। পাশাপাশি একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির শাহরিয়ার কবির, গণজাগরণ মঞ্চের ডা. ইমরান এইচ সরকার এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুও এই মামলার আসামি।
ডিবিসি/আরএসএল