জেলার সংবাদ

শেরপুরে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা

শেরপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

শেরপুরে টানা বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার দুপুর থেকে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া মহারশি, সোমেশ্বরী ও ভোগাই নদীর পানি বিপৎসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বুধবার (১৩ মে) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে নালিতাবাড়ী উপজেলার গোল্লারপাড় এলাকায় পানির তীব্র স্রোতে চেল্লাখালী নদীর প্রায় ১৫০ মিটার পাড় ভেঙে যায়। এতে আশপাশের ফসলি জমি ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এদিকে ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরের দিঘীরপাড় এলাকায় মহারশি নদীর কাঁচা বাঁধের কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

সকাল থেকে অব্যাহত ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে চেল্লাখালী নদী ছাড়া মহারশি, ভোগাই ও সোমেশ্বরী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, শেরপুরে এ পর্যন্ত প্রায় ৬৫ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। বৃষ্টিপাত দীর্ঘস্থায়ী না হলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে নদীর পাড় ভাঙার কারণে কিছু এলাকায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

 

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুদীপ্ত কুমার ধর বলেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। চেল্লাখালী নদীর পাড় ভাঙার ঘটনায় স্থানীয় এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

 

জেলার তিনটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমিতে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, রাতে উজানে আবারও ভারী বৃষ্টি হলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

 

ডিবিসি/কেএলডি

আরও পড়ুন