বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

শেরপুরে সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

শেরপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

শেরপুরের নকলা উপজেলা নির্বাচন অফিসে বকেয়া বিল সংক্রান্ত দাপ্তরিক মতবিরোধের জেরে নিজ কার্যালয়ের সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম দে-কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

সরকারি দপ্তরের ভেতর এমন সহিংস ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগী কর্মকর্তা নিজের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার চেয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

অভিযোগপত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, গত ২০ জানুয়ারি বিকেলে আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে নকলা উপজেলা নির্বাচন অফিস কক্ষে দাপ্তরিক কাজ চলাকালীন বকেয়া বিল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তর্কের এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে সহকারী কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম দে-র প্রতি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। 

 

ভুক্তভোগী কর্মকর্তা এর প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্ত কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে নিজের আসন ছেড়ে উঠে আসেন এবং তাকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন।ঘটনাস্থলে অফিস সহকারী আল-ইমরান ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. আশরাফুজ্জামান জুয়েল উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনেই ঘটা এই মারধরে পার্থ প্রতীম দে-র বাম হাতের কনুই আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ফুলে যায় এবং পরবর্তীতে অফিস কর্মীরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

 

ঘটনার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে পার্থ প্রতীম দে শেরপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, অফিস প্রধানের এমন সহিংস আচরণে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। নকলা অফিসে চাকরি করা এখন আমার জন্য প্রাণনাশের হুমকি স্বরূপ। তিনি ঘটনাটিকে সরকারি চাকরিবিধির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

 

অন্যদিকে, অভিযুক্ত উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মারধরের ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অফিসটাকে আমি পরিবার মনে করি। পরিবারের সদস্য হিসেবে ধমকাধমকি করেছি। জেলা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

 

এ বিষয়ে শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘটনা শুনে ও লিখিত অভিযোগ পেয়ে আমি সরেজমিনে গিয়েছি। যা ঘটেছে তা ন্যক্কারজনক। জেলা পর্যায় থেকে বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন