বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

শ্মশানের পাশে ফেলে যাওয়া অন্ধ ঘোড়াকে বাঁচালেন সাতক্ষীরার কলেজছাত্র সোহান

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

‘অন্ধ ঘোড়া আর কোনো কাজে আসবে না’-এমন নির্মম ও স্বার্থপর ভাবনা থেকে এক অসহায় প্রাণীকে শ্মশানের পাশে ফেলে রেখে গিয়েছিল তার নিষ্ঠুর মালিক। তীব্র গরমে ও ক্ষুধায় আধমরা অবস্থায় পড়ে থাকা ঘোড়াটিকে ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড় জমলেও, প্রাণীটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি কেউ। উল্টো অনেকেই মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে আপলোড করতেই ব্যস্ত ছিলেন।

তবে সেই ভিডিওটি নজরে আসতেই মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এইচএসসি পড়ুয়া ছাত্র সোহান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখার পর মানবিকতার তাড়নায় বিন্দুমাত্র দেরি না করে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান তিনি। সেখান থেকে অন্ধ ও অসুস্থ ঘোড়াটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে কিছুটা আপত্তি থাকলেও, সোহানের আকুলতায় শেষ পর্যন্ত সাড়া দেন তার মা-বাবা। এরপরই শুরু হয় ঘোড়াটিকে সুস্থ করে তোলার এক নিরলস লড়াই।


ঘোড়াটিকে বাড়িতে আনার পর দ্রুত স্থানীয় পশু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় সোহানের পরিবার। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, ঘোড়াটির দুটি চোখই চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে। আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমেও তার দৃষ্টিশক্তি আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। চিকিৎসকের এমন হৃদয়বিদারক বার্তার পরও হাল ছাড়েনি সোহান। দৃষ্টিহীন এই অবলা প্রাণীটিকে সে আর রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে দিতে চায়নি। নিজের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে প্রতিদিন ঘোড়াটির সেবা-যত্ন ও খাওয়া-দাওয়ার তদারকি করে যাচ্ছে সোহান ও তার পরিবার।


কলেজ শিক্ষার্থী সোহান বলেন, দুচোখ অন্ধ হলেও এটা তো একটা জীবন্ত প্রাণী। চোখের সামনে একটা প্রাণ এভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দিতে পারি না। তাই নিজের দায়িত্বে ওকে বাড়িতে এনেছি। যতদিন বাঁচবে, আমরা ওর যত্ন করব। ছেলের এই মানবিক কাজে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা জোগাচ্ছেন সোহানের বাবাও।


সোহানের বাবা নাঈম হোসেন বলেন, ছেলের জেদ আর ইচ্ছার কারণেই ঘোড়াটিকে আমরা বাড়িতে জায়গা দিয়েছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি প্রাণীটির দেখাশোনা করার। মানুষ হিসেবে যেকোনো অসহায় প্রাণীর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।


সোহানের এই ব্যতিক্রমী ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা নাড়া দিয়েছে স্থানীয়দের মনেও। বর্তমানের স্বার্থপর সমাজে যেখানে মানুষ মানুষের বিপদে এগিয়ে আসতে শতবার চিন্তা করে, সেখানে একটি অন্ধ পশুর প্রতি সোহানের এই মমতা সত্যিই বিরল। এলাকার অনেকেই এখন সোহানকে দেখতে এবং তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতে তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন।


স্থানীয়দের মতে, সোহানের এই মানবিক উদ্যোগ সমাজে হারিয়ে যাওয়া মানবতা, সহানুভূতি এবং প্রাণিকুলের প্রতি সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন