মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানী নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত বিশাল শ্রমিক সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর রাজধানীতে দলীয় উদ্যোগে এটিই বিএনপির প্রথম বড় ধরনের সমাবেশ। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি শ্রমিকদের কল্যাণে সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
বিকেল সোয়া ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাবেশ মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় লন্ডনে অবস্থানের পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার পর এটিই তার প্রথম কোনো শ্রমিক সমাবেশে অংশগ্রহণ। তার আগমনকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
সকাল থেকেই ব্যানার, ফেস্টুন এবং খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন শ্রমিকরা। দুপুরের মধ্যেই জনস্রোত কাকরাইল থেকে নটর ডেম কলেজ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। পুরো এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
দুপুর আড়াইটায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নয়াপল্টন এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়। মূল বক্তৃতার আগে স্থানীয় শিল্পীরা মঞ্চে দেশাত্মবোধক ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে আগত শ্রমিকরা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বর্তমান সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করবে। এর আগে এক বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণে বিএনপি এ যাবৎকালের সবচেয়ে বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উৎপাদনের রাজনীতি এবং বর্তমান সরকারের ৩১ দফার আলোকে শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর বলে সমাবেশে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল শনিবার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে যাচ্ছেন। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ডিবিসি/এসএফএল