সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সংশোধন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রী হলে দলীয় প্রধানের পদ ছাড়তে হবে এমন বিধান করা, সব জাতিগোষ্ঠীর স্বীকৃতি দেওয়াসহ বিভিন্ন প্রস্তাব পেয়েছে সংবিধান সংস্কার কমিশন।
গতকাল বুধবার (২৭শে নভেম্বর ) অংশীজনদের সঙ্গে কমিশনের মতবিনিময়ে এসব প্রস্তাব উঠে আসে বলে সভাসূত্রে জানা গেছে।
সংবিধান সংস্কার বিষয়ে মতামত জানতে অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় করছে অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন কমিশন। এর অংশ হিসেবে গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সংবিধান সংস্কার কমিশন।
বিদ্যমান সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, কোনো সংসদ সদস্য তাঁর দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকালের মতবিনিময়ে এই অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনার প্রস্তাব এসেছে। অনাস্থা প্রস্তাব এবং অর্থবিল ছাড়া অন্য যেকোনো বিষয়ে সংসদ সদস্যরা তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট দিতে পারবেন এমন বিধান করার পরামর্শ এসেছে।
কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মতবিনিময় সভায় বিচারপতি ইমান আলী, রাজা দেবাশীষ রায় ও অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে পরামর্শ দেন। এ ছাড়া সভায় ৯টি সংগঠনের ১৬ জন প্রতিনিধি তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
সেগুলো হলো সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস), নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব), বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, মায়ের ডাক, দলিত নারী ফোরাম, নাগরিক উদ্যোগ ও সম্পূর্ণা।
বৈঠক শেষে রাজা দেবাশীষ রায় সাংবাদিকদের বলেন, তিনি সংবিধানের প্রস্তাবনা, রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার অংশে কিছু পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন। সংবিধানে আদিবাসীদের জন্য রক্ষণমূলক ব্যবস্থা রাখা, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার পাশপাশি দেশের অন্য সব জাতিগোষ্ঠীর ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা, নীতিগতভাবে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতা বহাল রাখা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বিশেষ আইনগুলো সংবিধানের বিশেষ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেছেন। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থার সাংবিধানিক স্বীকৃতি বিষয়েও তুলে ধরেন দেবাশীষ রায়। তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে অন্তিমে গৃহীত সংবিধানে যাতে আদিবাসীদের অংশীদারিত্ব থাকে এবং তারা দেশের অন্যান্য নাগরিকের মতো সব অধিকার বৈষম্যহীনভাবে চর্চা করতে পারে।
মতবিনিময় সভায় সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ, কমিশনের সদস্য অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকরামুল হক, ব্যারিস্টার এম মঈন আলম ফিরোজী, ফিরোজ আহমেদ এবং মো. মুসতাইন বিল্লাহ অংশ নেন।
ডিবিসি/ এসকেবি