জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকারি দল। ১৭ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটিতে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ জন এবং বিরোধীদল থেকে ৫ জনের নাম আহ্বান করা হয়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংসদে দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ফ্লোর নিয়ে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন মন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
আইনমন্ত্রী প্রচলিত সাংবিধানিক চর্চাকে বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে সংবিধান সংশোধনকল্পে একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। তিনি জানান, রুল ২৬৬ অনুযায়ী ইতোমধ্যে ১২ সদস্যের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিসহ স্বতন্ত্র সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই তালিকায় বর্তমানে বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্যান্য দল থেকে ৫ জন সদস্য রয়েছেন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আরও ৫ জন সদস্যের নাম আহ্বান করে তিনি বলেন, আগামীকালই যদি এই তালিকা পূর্ণাঙ্গ করা যায়, তবে ‘জুলাই সনদ’ ও জনআকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে দ্রুত সংবিধান সংশোধনের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
স্পিকার এ সময় বিরোধী দলীয় নেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সরকার ও বিরোধী দল মিলিয়ে মোট ১৭ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দ্রুত নামের তালিকা প্রদান করা প্রয়োজন।
এর জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়েৃ চিফ হুইপের সাথে আমার প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে বর্তমান প্রস্তাবের ক্ষেত্রে একটি গভীর নীতিগত ও ধারণাগত পার্থক্য বিদ্যমান। সরকার যেখানে 'সংশোধন' বা এমেন্ডমেন্টের কথা বলছে, বিরোধী দল সেখানে পূর্ণাঙ্গ 'সংস্কার' বা রিফর্মের দাবি রাখছে। এই মৌলিক পার্থক্যের কারণে বর্তমান অধিবেশনে কোনো তালিকা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে দলের অভ্যন্তরে আরও আলোচনার পর এ বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
ডিবিসি/ এইচএপি