অর্থনীতি

সঞ্চয়ের বড় মাধ্যম হতে পারে প্রাইজবন্ড, যেভাবে কিনবেন

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

শনিবার ৫ই আগস্ট ২০২৩ ০৫:০৯:০৩ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সঞ্চয়ের প্রসঙ্গ এলেই প্রায় সবার মনে চলে আসে সঞ্চয়পত্র অথবা ডিপিএস এর কথা। অনেকেই হয়তো ভাবেন মাসে মাসে ব্যাংকে টাকা জমানোর কথা। আসলে সঞ্চয় নানা ভাবে করা যায়। এর একটি অন্যমত বড় মাধ্যম হতে পারে প্রাইজবন্ড।

অল্প বিনিয়োগের অন্যতম বড় ভরসার নামও প্রাইজবন্ড। কেননা সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ডিপিএস করতে দরকার মোটা অঙ্কের অর্থ। এর বাইরে অর্থাৎ কম বিনিয়োগের সঞ্চয়ের ব্যবস্থার প্রসঙ্গ আসলে তার নাম হতে পারে প্রাইজবন্ড।

প্রাইজবন্ডের কথা কম বেশি আমরা সবাই শুনেছি। কিন্তু এটিও যে সঞ্চয়ের বড় একটি খাত হতে পারে, তা হয়তো আমরা অনেকেই জানি না। মাসে মাসে সামর্থ্য অনুযায়ী যখন যা পারা যায় তা সঞ্চয় করতে চাইলে প্রাইজবন্ড হতে পারে ভালো বিকল্প। বর্তমানে দেশে যে প্রাইজবন্ড আছে, তার প্রতিটির সর্বনিম্ন মূল্যমান মাত্র ১০০ টাকা। তাই ইচ্ছেমতো প্রাইজবন্ড কিনে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।

প্রাইজবন্ড কেনার নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। যে মাসে হাতে টাকা থাকবে সে মাসেই কেনা যাবে। এটি কিনতে কোনো ধারাবাহিকতার দরকার নাই। তবে হ্যাঁ ব্যাংকে ডিপিএস করলে বা সঞ্চয়পত্র কিনলে মাসে মাসে সুদ বা মুনাফা পাবেন। প্রাইজবন্ডের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা নেই। কিন্তু ভাগ্য ভালো হলে প্রাইজবন্ড কিনেও পাওয়া যেতে পারে লাখ টাকা পুরস্কার। মাত্র ১০০ টাকার একটি প্রাইজবন্ডে লাখপতি হওয়ার সুযোগও রয়েছে।

প্রাইজবন্ডের ড্র ও পুরস্কার: তিন মাস অন্তর প্রাইজবন্ডের লটারির ড্র হয়। প্রথম পুরস্কার হিসেবে পাওয়া যাবে ৬ লাখ টাকা (১টি)। আর দ্বিতীয় পুরস্কারের অর্থমূল্য ৩ লাখ ২৫ হাজার (১টি), তৃতীয় পুরস্কার ১ লাখ টাকা (২টি), চতুর্থ পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা (২টি)  এবং সর্বনিম্ন পুরস্কার ১০ হাজার টাকা (৪০টি)।

 

প্রতি মাসে প্রাইজবন্ডে মোট ৪৬টি পুরস্কার থাকে। শুধু একটি সিরিজের জন্যই এ পরিমাণ পুরস্কার। এমন ‌আরও ৭০টি সিরিজ রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রাইজবন্ডে মোট পুরস্কারের সংখ্যা ৩ হাজার ২২০টি। বছরের ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই, ৩১ অক্টোবর প্রাইজবন্ডের ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

 

বিভিন্ন সংবাদপত্র ও জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রাইজবন্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এখানে জেনে রাখতে হবে একজন গ্রাহক প্রাইজবন্ড কেনার পরপরই পুরস্কারের আওতায় আসবেন না। প্রাইজবন্ড কেনার ন্যূনতম দুই মাস পার হওয়ার পর ওই বন্ড লটারির ড্রয়ের আওতায় আসবে। ধরুন আপনি ২৫ জানুয়ারি প্রাইজবন্ড কিনেছেন। তাহলে ৩১ জানুয়ারি যে ড্র অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে আপনার কেনা প্রাইজবন্ডটি লটারির ড্রয়ের জন্য বিবেচিত হবে না। জানুয়ারির পর ৩০ এপ্রিল যে ড্র হবে, সেখানে সেটি বিবেচনায় আসবে।

কোথা থেকে কেনা যাবে: আশপাশের যেকোনো ব্যাংক বা ডাকঘর থেকে প্রাইজবন্ড কেনা যায়। তবে বেসরকারি ব্যাংকের সব শাখায় হয়তো প্রাইজবন্ড নাও পাওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রমালিকানাধীন যেকোনো ব্যাংক থেকে কিনতে হবে। আশপাশে ব্যাংক না থাকলে বাড়ির পাশের ডাকঘর থেকেও কেনা যেতে পারে। যদি কোনো কারণে ওই ডাকঘরে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাইজবন্ড না পাওয়া যায় তাহলে তাদের চাহিদার কথা বললে তারা জোগাড় করে দেবে।

পুরস্কার না জিতলেও ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই। চাইলে যেকোনো সময় প্রাইজবন্ড ভাঙিয়ে সমপরিমাণ অর্থ নগদায়ন করে নেয়া যাবে। এ কারণে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে চাইলে প্রাইজবন্ড হতে পারে আপনার অন্যতম মাধ্যম। যখনই হাতে টাকা আসবে, তখনই কেনা ফেলা উচিত। লেখাটি লিখতে তথ্য সহায়তা নেয়া হয়েছে জসীম উদ্দিন রাসেলের লেখা বই স্মার্ট মানি হ্যাকস থেকে।

 

ডিবিসি/কেএলডি

আরও পড়ুন