বাংলাদেশ, অপরাধ

শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যা: পিচ্চি হেলালসহ ৪ জনের নামে মামলা

ডেস্ক প্রতিবেদন

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাইম আহমেদ টিটন (৫৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার (২৮ এপ্রিল) নিহতের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।


এজাহার সূত্রে জানা যায়, পিচ্চি হেলাল ছাড়াও এই মামলায় আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- বাদল (কিলার বাদল/কাইল্লা বাদল), শাজাহান ও রনি (ভাঙ্গারি রনি)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।


পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় পিচ্চি হেলালের সহযোগী হিসেবে রায়েরবাজারের জুয়েল রাজ, নাক্কা সোহেল, লালমাটিয়ার জাহিদ হোসেন মোড়ল ও জাকির হোসেন রোডের মেহেদী হাসান রুবেল ওরফে তারচোর রুবেল জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।


পুলিশ ও মামলার এজাহার বিশ্লেষণে টিটন হত্যার পেছনে তিনটি সম্ভাব্য কারণ উঠে এসেছে:
১. গরুর হাটের ইজারা: মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, একটি গরুর হাটের ইজারা (শিডিউল) কেনা নিয়ে পিচ্চি হেলাল ও তার সহযোগীদের সঙ্গে টিটনের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। ২৭ এপ্রিল টিটন তার ভাইকে জানিয়েছিলেন যে, প্রতিপক্ষরা তাকে সমঝোতার কথা বলে ডেকেছে।


২. ব্যক্তিগত ও আর্থিক দ্বন্দ্ব: পুলিশের একটি সূত্র বলছে, কাইল্লা বাদলের স্ত্রীর সঙ্গে টিটনের সম্পর্ক বা তাকে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে বাদলের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। এছাড়া ধানমন্ডি এলাকায় ডিপিডিসির তার চুরির টাকার ভাগ নিয়েও তারচোর রুবেল-এর সঙ্গে টিটনের বিবাদ চলছিল।


৩. শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল: অপর একটি সূত্র জানায়, জেল থেকে বের হওয়ার পর টিটন পিচ্চি হেলালের গ্রুপে যোগ দেন। এতে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজেদুল হক ইমনের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। উল্লেখ্য, টিটন ছিলেন ইমনের ছোট স্ত্রীর বড় ভাই। তবে মামলায় ইমনের নাম উল্লেখ করা হয়নি।


গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ হোস্টেলের সামনে বটতলায় টিটনের ওপর হামলা চালানো হয়। মোটরসাইকেলে আসা দুই অস্ত্রধারী এবং তাদের সঙ্গে থাকা আরও ৫-৭ জন টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। তার কপাল, পিঠ, হাত ও বগলে একাধিক গুলি লাগে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোয়েন্দারা কাজ করছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই ভালো কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে।


২০০১ সালে তৎকালীন সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় দুই নম্বরে ছিল খন্দকার নাইম আহমেদ টিটনের নাম। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে অপরাধজগতে পা রাখা টিটন অস্ত্র ব্যবসা ও একাধিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আলোচিত ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা মামলায় ২০১৪ সালে তিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন কারাবাসের পর গত বছরের ১৩ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর হাজারীবাগের সুলতানগঞ্জে বসবাস শুরু করে নতুন করে ব্যবসা বা ইজারার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন