বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, সমস্যার সমাধান তাদের হাতে থাকলেও ক্ষমতা সরকারের হাতে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের পরিকল্পনা দিতে ছয় মাসের সময় বেঁধে দিয়ে যে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন, তারই কড়া জবাবে হাসনাত এই মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ জানানোর আগেই সমাধানের রূপরেখা টেবিলে দেওয়া ছিল। এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ইতোমধ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি মোট ১৫ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি বিরোধীদলীয় সদস্যরা ভর্তুকি নীতি, ফুয়েল প্ল্যান ও কন্টিঞ্জেন্সি প্ল্যান নিয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য রেখেছেন। এসব প্রস্তাব বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সেমিনারে আলোচিত হলেও প্রধানমন্ত্রীর বিশাল মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদের কাছে সেই তথ্য না পৌঁছানোকে তিনি লজ্জাজনক বলে আখ্যায়িত করেন।
সরকারের ৬২ জন মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর কেউই বিরোধী দল বা নাগরিকদের এসব প্রস্তাবনা পড়ে দেখেননি অভিযোগ করে হাসনাত বর্তমান প্রশাসনের যোগ্যতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি অবিলম্বে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন ডাকারও আহ্বান জানান। প্রশাসনে মাত্রাতিরিক্ত দলীয়করণের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা নষ্ট হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভর্তুকি কমানো হলেও ক্যাপাসিটি চার্জ ঠিকই বহাল রাখা হয়েছে। অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দিয়ে মন্ত্রণালয় চালানো এবং মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন আজ পর্যন্ত প্রকাশ না হওয়ার বিষয়টিও তিনি তার পোস্টে তুলে ধরেন।
বর্তমান সংকট উত্তরণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে অনুমোদিত ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ অবিলম্বে বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট দাবি জানান এই সংসদ সদস্য। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই নীতি বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি উৎপাদকরা সরাসরি বড় শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে, যেখানে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এক টাকাও খরচ হবে না।
একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর উচিত বিরোধী দলকে আল্টিমেটাম না দিয়ে নিজেদের কাজের জবাবদিহি করা—এমন মন্তব্য করে হাসনাত বলেন, ছয় মাস ক্ষমতায় থাকার পরও দেশ কেন ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের মুখে পড়েছে এবং রাষ্ট্র কেন অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো, তার জবাব সরকারকেই দিতে হবে। সবশেষে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ছয় মাস পর জনগণ ঠিকই জানতে চাইবে সমাধান নাকি ক্ষমতার—ঠিক কোনটির অভাবে দেশ অন্ধকারে ছিল।
ডিবিসি/পিআরএএন