ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযানের গুঞ্জনে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই গুরুত্বপূর্ণ এক কূটনৈতিক সফরে তুরস্কে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে তিনি ইস্তাম্বুল শহরে অবতরণ করেন। মাত্র একদিনের এই ঝটিকা সফরকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এড়াতে এবং একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই এ সফরের আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছালে আব্বাস আরাঘচিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন আঞ্চলিক মহাপরিচালকসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এই সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করার কথা রয়েছে। তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। ওই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের পাশাপাশি চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া সফরের অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গেও আব্বাস আরাঘচির সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সফর ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে কোনো প্রকার হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত সমস্ত মার্কিন ঘাঁটি এবং সাগরে থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী লক্ষ্য করে পাল্টা বিধ্বংসী হামলা চালাবে ইরান।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, তবে দেশটিতে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি নাকচ করে দেননি। ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমার কথা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আমার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিকে বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের বিপরীতে ইরানের তীব্র পাল্টা হুমকির কারণে পরিস্থিতি যখন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, তখন শান্তির বার্তা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, একটি 'বিধ্বংসী পরিণতি' এড়াতে হলে অবিলম্বে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করা প্রয়োজন। বিশ্বনেতারা এখন তাকিয়ে আছেন তুরস্কের এই বৈঠকের ফলাফলের দিকে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ডিবিসি/এএমটি