জাতীয়

সরকার বলছে সংকট নেই, সারা দেশে তেলের জন্য পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন

ডেস্ক প্রতিবেদন

ডিবিসি নিউজ

মঙ্গলবার ২৪শে মার্চ ২০২৬ ০২:৪৯:৫৯ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সারা দেশে জ্বালানি সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে সংকট না থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে তেল পাচ্ছেন না মোটর সাইকেল চালকরা। আর পাম্পের কাছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেয়ে অনেকের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য নিয়ে ডেস্ক রিপোর্ট।

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় তেলের জন্য সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত তেল মিলছে না। এরপরও মাত্র তিনশো থেকে পাঁচশো টাকার তেল নিতে পারছেন তারা। ভুক্তভোগীরা বলছেন, এভাবে পাম্প থেকে দুই-তিন লিটার তেল কিনতে সারা দিন বা সারা রাত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। 

 

অন্যদিকে বাইরের দোকানগুলোতে আগে থেকে মজুত করা তেল বিক্রি করছে প্রায় দ্বিগুণ দামে।  সেখানে পেট্রোল প্রতি লিটার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। এতে আয়-বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। যদিও পাম্প মালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে যতটুকু পাওয়া যাচ্ছে আমরা তাই বিক্রি করছি।

 

নওগাঁ: নওগাঁর ফিলিং স্টেশনগুলোতে সপ্তাহ ধরে তীব্র জ্বালানি সংকট চলছে। পাম্পগুলোতে তেলের জন্য হাহাকার থাকলেও স্থানীয় হাট-বাজারে বোতলে করে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলছে। কিন্তু ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লিটার দরে তেল বিক্রি হচ্ছে বাইরের দোকানগুলোতে। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট পাম্প থেকে তেল সরিয়ে খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করছে। সরকার নির্ধারিত পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার কথা। ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রশাসনের নীরবতার কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা তেল মজুত করে প্রকাশ্যে চড়া দামে বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছে।

 

নেত্রকোণা: নেত্রকোনায়ও তেল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলা শহরের বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও মিলছে না তেল। যদিও সংকট কাটানোর আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এছাড়াও দেশের অন্যান্য জেলায় জ্বালানি তেল সংকটের খবর পাওয়া গেছে।

 

যদিও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। হঠাৎ করে বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে এসে তিনি এ কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাইয়ের মধ্যে একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছে। ডিমান্ড বেড়ে গেছে। আমরা একইভাবে সাপ্লাই করতাম সে সাপ্লাই চলছে। ডিমান্ড বেড়ে গেলে সেখানে তো একটু ক্রাইসিস হবে। ক্রাইসিস হচ্ছে, এটা তো সাধারণ জ্ঞান।
 

ডিবিসি/কেএলডি

আরও পড়ুন