কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সারাদেশে দুই হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক পলিসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ কথা জানান।
‘রিপারপোজিং অ্যাগ্রিকালচারাল পাবলিক স্পেন্ডিং ফর কোয়ালিটি গ্রোথ অ্যান্ড জবস ইন বাংলাদেশ’স এগ্রিফুড সিস্টেম’ শীর্ষক ওই সভায় কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে জড়িত। কৃষকরা ফসল উৎপাদন করলেও অনেক ক্ষেত্রে সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে, বিশেষ করে পচনশীল কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে ন্যায্যমূল্য পান না। এই সমস্যা সমাধানে কৃষকদের দোরগোড়ায় সংরক্ষণ সুবিধা পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৫ থেকে ২০ জন কৃষকের সমন্বয়ে সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎচালিত এসব মিনি কোল্ড স্টোরেজ পরিচালিত হবে। পাইলট প্রকল্পে সফলতা পাওয়া এই দুই হাজার স্টোরেজ স্থাপিত হলে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক সরাসরি এর সুবিধা পাবেন।
কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, উৎপাদন ও বাজার চাহিদার মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে সরকার ডাটাবেসভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে, যাতে ভোক্তারা সারা বছর স্থিতিশীল দামে কৃষিপণ্য পান। এছাড়া আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দেশে পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন হবে না এবং তিন বছরের মধ্যে পেঁয়াজবীজ ও আদা উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, মাটির অম্লতা কমিয়ে উর্বরতা বৃদ্ধি এবং কৃষিতে ডিজেল ও বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে সৌরশক্তিনির্ভর সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
ডিবিসি/আরএসএল