আন্তর্জাতিক, আমেরিকা

সস্তা কিন্তু বিধ্বংসী, ইরানের ড্রোন ‘শাহেদ’ আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অন্যতম এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন। গত প্রায় ৪দিনে বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে কয়েক শ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পাল্টা জবাব এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টিতেই তেহরান এই কৌশল নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৩৫ হাজার ডলার মূল্যের এই ড্রোনগুলো চেনার সহজ উপায় হলো এর ইঞ্জিনের কর্কশ শব্দ, যা অনেকটা ঘাস কাটার মেশিনের মতো। বাহরাইন থেকে পাওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের আঁধারে একটি ডেল্টা-উইং ড্রোন বিকট শব্দে ধেয়ে এসে একটি বহুতল ভবনে আঘাত হানছে। ড্রোনটি প্রায় ৫০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে, যা একটি বিশাল ভবন ধসিয়ে দিতে না পারলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টিতে সক্ষম।


শাহেদ-১৩৬: কেন এটি এত বিপজ্জনক?
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় শাহেদ ড্রোন তৈরি করা সহজ এবং অত্যন্ত সস্তা। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- পাল্লা: এটি সর্বোচ্চ ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। রাডার ফাঁকি: রাডার এড়াতে এটি সাধারণত মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ: এটি আগে থেকে নির্ধারিত পথে চলতে পারে, আবার দূর থেকে অপারেটরের মাধ্যমে শেষ মুহূর্তে দিক পরিবর্তনও করতে পারে। প্রযুক্তির বিস্তার: ইরানের ‘শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ’ এর নকশা করলেও বর্তমানে রাশিয়ার ইয়েলাবুগা শহরের কারখানায় এটি ব্যাপকভাবে তৈরি হচ্ছে।


কারিগরি বৈশিষ্ট্য ও সক্ষমতা
শাহেদ ড্রোন (বিশেষ করে শাহেদ-১৩৬) ছোট আকৃতির হলেও অত্যন্ত কার্যকর। আকার ও গতি: ডানা ৭ ফুট, গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ মাইল। বিস্ফোরক: এটি ৯০ পাউন্ডের ওয়ারহেড বহন করতে পারে। যদিও এটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের (১০০০ পাউন্ড) তুলনায় ছোট, তবুও নির্দিষ্ট ভবনে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। উৎপাদন খরচ: প্রতিটি ড্রোনের খরচ মাত্র ৩৫,০০০ মার্কিন ডলার। যেখানে এগুলোকে ঠেকাতে ব্যবহৃত এক একটি 'প্যাট্রিয়ট' ক্ষেপণাস্ত্রের দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার।


উৎপাদন ও প্রযুক্তির উৎস
এই ড্রোনগুলোর প্রধান শক্তি হলো এর সহজলভ্য প্রযুক্তি ও বিকেন্দ্রীভূত উৎপাদন ব্যবস্থা। ইঞ্জিন: জার্মানির প্রযুক্তিতে রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ার করা সাধারণ চার-সিলিন্ডার পিস্টন ইঞ্জিন (মাদো এমডি-৫৫০)। উপাদান: ড্রোনগুলোতে আয়ারল্যান্ডের অ্যান্টেনা বা পশ্চিমা দেশগুলোর তৈরি ফ্লাইট কন্ট্রোলার ও নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। ইরান ও রাশিয়া চোরাচালান বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এসব ইলেকট্রনিক্স সংগ্রহ করে। সহজ নির্মাণ: এটি তৈরির জন্য বিশাল কারখানার প্রয়োজন হয় না, গ্যারেজ বা ছোট নৌ তৈরির কারখানার মতো স্থাপনাতেই এগুলো তৈরি করা সম্ভব।
কৌশলগত হুমকি: সংখ্যার লড়াই


রাশিয়া ও ইরান "ঝাঁক ড্রোন" কৌশল ব্যবহার করছে। একসাথে শত শত ড্রোন ছোড়া হলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দামি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শেষ হয়ে যায়। সহজ উৎক্ষেপণ: কোনো বিশেষ লঞ্চার লাগে না; সাধারণ পিকআপ ট্রাকের পেছন থেকেও এগুলো ওড়ানো যায়। অব্যাহত আক্রমণ: অধিকাংশ ড্রোন ভূপাতিত হলেও দুই-একটি ড্রোন লক্ষ্যভেদে সফল হলে তাতেই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি সম্ভব।


আগামীর চ্যালেঞ্জ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
এই ড্রোন যুদ্ধ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিকল্প ভাবছে। কম দামি ইন্টারসেপ্টর: ইউক্রেন ইতোমধ্যেই সস্তা ড্রোন ব্যবহার করে শাহেদ ঠেকানোর চেষ্টা করছে। লেজার প্রযুক্তি: উচ্চ-শক্তির লেজার এবং সাশ্রয়ী এপিকেডব্লিউএস (APKWS) ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে।


সূত্র: বিবিসি. আল জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন