উত্তর সাইপ্রাস থেকে তুরস্কগামী একটি যাত্রীবাহী ফেরি ভূমধ্যসাগরে ডুবে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ২৭০ জন আরোহী নিয়ে যাত্রা করা ‘ফিলো জেট’ নামের ফেরিটি সাইপ্রাসের উত্তর উপকূলের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
তুর্কি সাইপ্রিয়ট নেতা তুফান এরহুরমান জানান, এ পর্যন্ত ২৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে তুরস্কের সহায়তায় বিমান, ড্রোন, হেলিকপ্টার ও যুদ্ধজাহাজের সমন্বয়ে বড় আকারের উদ্ধার অভিযান চলছে। জাহাজটি উল্টে গিয়ে প্রায় ৫১৪ মিটার গভীরে তলিয়ে গেছে।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফেরিটিতে ২৫৯ জন যাত্রী এবং ৮ জন ক্রু ছিলেন। এটি উত্তর সাইপ্রাসের গিরনে (কিরেনিয়া) থেকে দক্ষিণ তুরস্কের তাসুকুর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। উপকূল থেকে কয়েক মাইল দূরে যাওয়ার পরই ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে তা উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর উত্তর সাইপ্রাসের স্বঘোষিত তুর্কি প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল এটিকে সাইপ্রাসের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নৌ বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে ফেরির ক্যাপ্টেন ও সাতজন ক্রুকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া নিহত ও নিখোঁজদের স্মরণে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
বেঁচে ফেরা যাত্রীরা জানান, প্রচণ্ড বাতাসের মধ্যে জাহাজের নিচে পানি ঢুকতে শুরু করলে ক্রুদের জানানো হলেও তারা প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। দ্রুত জাহাজে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে লাইফ জ্যাকেট না পেয়েই পানিতে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তুরস্ক ছাড়াও গ্রিক সাইপ্রিয়ট সরকার, জাতিসংঘ এবং তুরস্কে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস গভীর শোক প্রকাশ করেছে। উদ্ধার তৎপরতা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন