জেলার সংবাদ

সাতক্ষীরায় শিক্ষকের সঙ্গে উগ্র আচরণ: শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের এক শিক্ষকের সঙ্গে উগ্র আচরণের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত কোচিং পরিচালকের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে)  বেলা ১১টায় কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত ডা. সজীবের পরিচালিত ‘ডা. সজীব বায়োলজি’ নামের কোচিং সেন্টারটি ঘেরাও করে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এতে প্রায় এক ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ওই কোচিং সেন্টারটি সিলগালা করে দেয়।

 

শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডা. সজীব সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সামনে একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে আসছেন। কলেজ চলাকালীন সময়ে কোচিং সেন্টারটি খোলা রাখার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রতিবাদ করেন কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। এই ঘটনার জেরে ডা. সজীব মোবাইল ফোনে ওই শিক্ষকের সঙ্গে চরম উগ্র আচরণ করেন। তাদের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, অভিযুক্ত সজীব নিজেই এই কলেজের ছাত্র ছিলেন, অথচ তিনি সরকারি কলেজের শিক্ষকদের পাঠদান নিয়ে কটূক্তি করেছেন।

 

শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণের প্রতিবাদে আজ সকাল থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে কলেজ ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত ডা. সজীবকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং কলেজ চলাকালীন সময়ে কোচিং বাণিজ্য বন্ধের জোর দাবি জানান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ডা. সজীবের কার্যালয় থেকে একটি কম্পিউটার ও হার্ডডিস্ক জব্দ করে এবং পুরো কোচিং সেন্টারটি সিলগালা করে দেয়।

 

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) সুশান্ত ঘোষ বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতেই কোচিং সেন্টারটি সিলগালা করা হয়েছে এবং সেখান থেকে একটি হার্ডডিস্ক ও কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হাসেম বলেন, সজীব আমাদেরই কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। সে কলেজের সামনে কোচিং চালালেও এতদিন তাকে কিছু বলা হয়নি। কিন্তু একজন শিক্ষককে অশালীন ভাষায় হুমকি দেওয়ার কারণেই আজকের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে।
 

আরও পড়ুন