বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের প্যারোলে মুক্তি না পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেনা মুক্তি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না এ বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) গোলাম মো. বাতেন।
জেলা প্রশাসক জানান, প্যারোলে মুক্তির একটি আবেদন গত শুক্রবার তাঁর সরকারি বাসভবনে আসে। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তিনি কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সাদ্দাম হোসেন যেহেতু জেলার বাইরের (যশোর) কারাগারে বন্দি রয়েছেন, তাই প্রচলিত কারাবিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটই কেবল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আবেদনকারীদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হলে তারা সন্তোষ প্রকাশ করে চলে যান। এরপর এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
এদিকে সাদ্দামের মামা মোঃ হেমায়েত উদ্দিন জানান, গত ২৩ জানুয়ারি প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসক তখন তাদের জেলা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, অন্য জেলায় বন্দি আসামিকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই। আইন অনুযায়ী আসামি যে কারাগারে বন্দি আছেন, সেখানেই আবেদনের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে উপায় না পেয়ে মরদেহ যশোর কারাগারের ফটকে নিয়ে গেলে মাত্র তিন মিনিটের জন্য সাদ্দামকে তা দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে ৯ মাসের শিশুসন্তানকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। শুক্রবার রাতে ওই গৃহবধূ ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রাত সাড়ে ১০টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহত নারীর স্বামী জুয়েল হাসান সাদ্দাম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি একাধিক মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
ডিবিসি/কেএলডি