জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের মধ্যকার একটি বিতর্কিত ফোনালাপের কল রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারে এটি উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানকে ফোন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন। ফোনালাপে সাদ্দামের উদ্দেশ্যে কাদেরকে বলতে শোনা যায়, ‘এদের মারো না কেন’। উত্তরে সাদ্দাম জানান, ‘পুলিশ মুখোমুখি হতে নিষেধ করেছে’। প্রসিকিউশনের দাবি, এ ফোনালাপের পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সহিংসতায় আরও উজ্জীবিত হয়।
মামলায় গত ৪ আগস্ট যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ট্রাইব্যুনালকে জানান, জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; এটি ছিল পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত ‘সিস্টেমেটিক ক্রাইম’। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ বলার পর ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে ছাত্রলীগ-যুবলীগ দেশজুড়ে তাণ্ডব চালায়, যার ফলে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আসামিরা সবাই বর্তমানে পলাতক।
উল্লেখ্য, তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে আসামিদের উসকানি, নির্দেশনা ও সশস্ত্র পরিকল্পনার ফলেই দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।