শত্রুপক্ষ সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে এখন অর্থনৈতিক চাপ, সাইবার হামলা, সন্ত্রাসবাদ এবং মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের মাধ্যমে ইরানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৭ মে) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, শত্রুভাবাপন্ন শক্তিগুলো ইরানের বিরুদ্ধে একটি গোপন গোয়েন্দা-নিরাপত্তা যুদ্ধ তীব্রতর করার মাধ্যমে রণক্ষেত্রের পরাজয় পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক যুদ্ধে পরাজিত শত্রু এখন সফট ওয়ার বা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মাধ্যমে হলেও নিজেদের জন্য কোনো সাফল্য খোঁজার চেষ্টা করছে। এতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক যুদ্ধ চলাকালীন শত্রুরা প্রকাশ্যেই ইরানকে খণ্ড-বিখণ্ড করা এবং দেশটির শাসনব্যবস্থা উৎখাতের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছিল, কিন্তু সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূরণে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের (২০২৫) মাঝামাঝিতে একটি উসকানিহীন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি শহীদ হওয়ার পর, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল-অধিকৃত ভূখণ্ড এবং অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থ লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের মতে, শত্রুরা এখন ইরানের অভ্যন্তরে ফাটল ধরাতে সফট, কগনিটিভ এবং হাইব্রিড যুদ্ধ কৌশলের ওপর বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। বিবৃতিতে শত্রুপক্ষের বৈরী তৎপরতার বেশ কয়েকটি অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক অসন্তোষ: অর্থনৈতিক চাপকে আরও তীব্র করা এবং মুদ্রাস্ফীতি ও পণ্য ঘাটতিকে পুঁজি করে শত্রুর এজেন্ট এবং বিদেশি অর্থপুষ্ট ফার্সি ভাষার ভাড়াটে গণমাধ্যম-এর মাধ্যমে সামাজিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া।
জাতিগত ও ধর্মীয় বিভেদ: ইরানের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী এবং সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে জাতীয় সংহতি বিনষ্ট করতে জাতিগত ও ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা।
সন্ত্রাসী তৎপরতা ও সীমান্ত হামলা: ইরানের উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলে নাশকতা ও হামলার জন্য জায়নিস্ট-পৃষ্ঠপোষকতা পুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করা। মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধ চলাকালীন এই গোষ্ঠীগুলো সমন্বিত স্থল হামলার চেষ্টা করলেও ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর গোয়েন্দা তৎপরতায় তাদের অবস্থান ফাঁস হয়ে যায় এবং তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় দেশটির বর্তমান প্রধান হুমকিগুলোর মধ্যে গুপ্তহত্যার ষড়যন্ত্র, নাশকতা, অস্ত্র চোরাচালান, সাইবার হামলা এবং স্টারলিংক-এর মতো অবৈধ যোগাযোগ সরঞ্জাম পাচারের বিষয়গুলো উল্লেখ করেছে।
একই সাথে, ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক অভিযানে মদদ দেওয়ার জন্য বিবিসি পার্সিয়ান, ভয়েস অব আমেরিকা এবং ইরান ইন্টারন্যাশনালের মতো বিদেশি ফার্সি ভাষার গণমাধ্যমগুলোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল